


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড় পর্দার সামনে বসে উদ্বিগ্ন পড়ুয়ারা। ভারতের সন্তান শুভাংশু শুক্লা কখন পৌঁছবেন? সেই দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষা। তার মাঝে চলছে সায়েন্স শো। ইসরোর ফুল ফর্ম, ভারতের প্রথম মহাকাশ মিশন কী? এসব প্রশ্নের উত্তর নিমেষেই দিয়ে দিচ্ছে পড়ুয়ারা। বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে (বিআইটিএম) রাখা হয়েছে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলের রেপ্লিকা। সেসব তো হল, কিন্তু ডকিং কখন হবে? নাসার চ্যানেলে লাইভ সেই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গে হাততালি দিয়ে উঠল পড়ুয়ারা। একই সঙ্গে সকলে বলে উঠল, ‘থ্রি চিয়ার্স ফল শুভাংশু! থ্রি চিয়ার্স ফর ইন্ডিয়া।’
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা ভিড় জমিয়েছিলেন বিআইটিএমে। শুধুই লাইভ ডকিং দেখা নয়, তার সঙ্গে মিউজিয়ামের আধিকারিকরা বুঝিয়ে দেন এই অভিযানের গোটা প্রক্রিয়া। বড়পর্দায় ভিডিওর মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে পৃথিবী থেকে বেরনোর পর ফ্যালকন ৯ রকেটটি ফিরে আসে পৃথিবীতে। তারপর ধীরে ধীরে দ্বিতীয় পর্যায়ে আর একটি ইঞ্জিন স্পেস স্টেশনের অরবিটে ড্র্যাগন ক্যাপসুলকে নিয়ে যাওয়ার পর খুলে যায়। এরপরেই গতি বাড়িয়ে ড্র্যাগন ক্যাপসুলের সঙ্গে একটি ট্রাঙ্ক এগিয়ে যায় স্পেস স্টেশনের দিকে। এই যাবতীয় প্রক্রিয়া বোঝানোর মাঝেই একবার করে লাইভ স্ট্রিমিং দেখে নেওয়া হচ্ছে। বলতে বলতেই বড়পর্দায় ফুটে উঠল সেই দৃশ্য। আর তখনই পড়ুয়ারা উচ্ছ্বসিত। বড়পর্দার সামনে গিয়ে বিআইটিএমের আধিকারিকরা খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন পড়ুয়াদের।
সেসব দেখে বিহ্বল দৃষ্টিতে পড়ুয়াদের হরেক প্রশ্ন। মাহাকাশের বাড়িতে গিয়ে ওঁরা কী খাবেন? কী করবেন? কতদিন বাদে ফিরে আসবেন পৃথিবীতে? বিআইটিএমের আধিকারিকরা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, সেই স্প্ল্যাশ ডাউনের কথা। প্রশ্ন আসছে, আবার সুনীতা উইলিয়ামসদের মতো ফিরতে দেরি হবে না তো? বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, সেই সম্ভাবনা কম। কারণ, এবার আর কোনও পরীক্ষা নয়, একেবারে সমস্ত প্রযুক্তি সফলভাবে পরীক্ষার পরেই শুভাংশুরা স্পেস স্টেশনে গিয়েছেন।