


অটোয়া: শুল্ক নিয়ে আমেরিকার লাগাতার হুমকির মুখে হঠাৎ ভোটের পথে যেতে হয়েছে কানাডাকে। সোমবার অনুষ্ঠিত অকাল সাধারণ নির্বাচনে লিবারেলদের উপরেই আস্থা দেখাল দেশের মানুষ। এই নিয়ে টানা চারবার কানাডায় সরকারে এল লিবারেল পার্টি। এবারের জয়ের নেতৃত্বে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। প্রত্যাশিতভাবে আরও একবার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন এই লিবারেল নেতা। দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরে প্রথম জনসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কার্নি। অভিযোগ করেন, কানাডার জমির ওপরে কুনজর আছে আমেরিকার। ট্রাম্প কানাডাকে ভেঙে দিতে চান।
জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, খালিস্তানি জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত, আমেরিকার শুল্ক হুমকি— সাম্প্রতিক অতীতে এমন সঙ্কটে আগে কখনও পড়েনি কানাডা। এই আবহে সেদেশের অকাল নির্বাচনের ওপরে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বাস্তবেও তাই দেখা গেল। তবে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল লিবারেলরাই। প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার মধ্যেও ক্ষমতা ধরে রাখল তারা। তবে কমন্স সভায় লিবারেলদের সঙ্গে কনজারভেটিভস পার্টির আসন সংখ্যার ব্যবধান সামান্যই। এখনই স্পষ্ট নয় লিবারেলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। যদিও জয়ের উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে লিবারেল শিবিরে। জনাদেশ স্পষ্ট হওয়ার পরে ভক্তদের উদ্দেশ্যে কার্নি বলেন, ‘আমেরিকানদের বিশ্বাসঘাতকতায় আমরা বিস্মিত। কিন্তু এই শিক্ষা আমরা আজীবন মনে রাখব।’ এর রেশ ধরে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আক্রমণ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের হুমকিকে শুধু ফাঁকা আওয়াজ বলে ধরলে হবে না। আমেরিকাকে জেতাতে আমাদের (কানাডাকে) ভেঙে দিতে চান ট্রাম্প। কিন্তু তা কখনই হবে না।’