


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোনও এলাকাতেই নিয়মিত আবর্জনা সাফ করা হয় না, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কোথাও কোথাও আবার এমন অভিযোগও শোনা যায়, যেখানে পুরসভার কর্মীদের কোনওদিন আবর্জনা তুলতে দেখেননি বাসিন্দারা। বাড়ির সামনে জমে থাকা জঞ্জাল থেকে দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব— সব মিলিয়ে নাগরিক অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছিল। এই অভিযোগের অবসান ঘটাতে এবং শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল বালি পুরসভা। শহরের মোট ৩৫টি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের কাজকে শুধু নিয়মিত করাই নয়, এই ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়েছে পুরসভা। এই উদ্দেশ্যেই বালি, বেলুড় ও লিলুয়া এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের পাইলট প্রজেক্ট। প্রথম ধাপে পাঁচটি ওয়ার্ডের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭০টি ট্রাই-সাইকেল ভ্যান। পুরসভা সূত্রে খবর, আগামী দিনে ধাপে ধাপে গোটা শহরে মোট ৩৫০টি আবর্জনা সংগ্রহকারী ভ্যান নামানো হবে।
কনজারভেন্সি ম্যানেজমেন্ট স্কিমের আওতায় স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সুডা) থেকে ৭০টি ট্রাই-সাইকেল ভ্যান পেয়েছে বালি পুরসভা। পুরসভা সূত্রে খবর, বালি, বেলুড় ও লিলুয়া মিলিয়ে মোট ৩৫টি ওয়ার্ডকে পাঁচটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ‘বি জোন’ হিসেবে চিহ্নিত ৭ থেকে ১১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। ট্রাই-সাইকেলগুলি এই জোনের পাঁচটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে আবর্জনা সংগ্রহ করবে। পুরসভা ইতিমধ্যেই এই পাঁচটি ওয়ার্ডের প্রতিটি বাড়িতে ভিজে ও শুকনো আবর্জনা আলাদা করে রাখার জন্য সবুজ ও নীল রঙের ডাস্টবিন সরবরাহ করেছে। শুধু তাই নয়, ট্রাই-সাইকেল ভ্যানগুলিতেও বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই আবর্জনা প্রথমে সেকেন্ডারি কালেকশন পয়েন্টে ফেলা হবে। সেখান থেকে এফওটি ভ্যানের মাধ্যমে আবর্জনা পৌঁছে যাবে ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে।
পুরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, একটি ট্রাই-সাইকেল ভ্যান কতগুলি বাড়ি থেকে আবর্জনা বহন করতে সক্ষম, তা নিয়ে আগেই সমীক্ষা করা হয়েছে। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতেই ভ্যানের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও ৩০০টি ট্রাই-সাইকেল ভ্যান আসবে, যা বাকি চারটি জোনের ৩০টি ওয়ার্ডে কাজে লাগানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৪টি করে ট্রাই-সাইকেল ভ্যান দেওয়া হবে।
বালি পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আবর্জনা সংগ্রহের কাজে পুরসভাকে স্বনির্ভর করতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতদিন বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ নিয়ে নাগরিকদের যে অভিযোগ ছিল, তা অমূলক নয়। এবার সেই অভিযোগ মেটানোই আমাদের লক্ষ্য।’ প্রসঙ্গত, এতদিন পুরসভার আবর্জনা সংগ্রহ ব্যবস্থা পুরোপুরি এজেন্সি নির্ভর ছিল। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আবর্জনা সংগ্রহের কাজে ঢিলেমি নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ আসত। পুরসভার নিজস্ব কিছু ভ্যান থাকলেও সেগুলি পর্যাপ্ত ছিল না, উপরন্তু বহু ভ্যানের অবস্থা ছিল বেহাল। নতুন এই উদ্যোগের ফলে শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলেই আশাবাদী পুরসভা। নিজস্ব চিত্র