


বেঙ্গালুরু: ব্যাট দিয়ে বাইশ গজে যেন বৃত্তই আঁকলেন লোকেশ রাহুল। তারপর হাতের চওড়া উইলো সজোরে ঠুকলেন পিচে। পরের মুহূর্তে বুকে টোকা দিতে থাকলেন। এক জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্যকে মনে করিয়ে দিয়ে রাগত ভঙ্গিতে যেন ঘোষণা করলেন, ‘এটা আমার ঘরের মাঠ। অন্য যে কারওর চেয়ে এই পিচের চরিত্র বেশি জানি। ছেলেবেলা থেকে এখানে খেলেই বড় হয়েছি।’ এমন উত্তেজিত মেজাজে ৩২ বছর বয়সিকে শেষ কবে জয়ের উৎসব পালন করতে দেখা গিয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা হতেই পারে। বৃহস্পতিবার রাতে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ১৩ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে হারিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। জয়ের প্রধান কারিগর অবশ্যই রাহুল। আরসিবি’র হোম অ্যাডভান্টেজ কার্যত ছিনিয়ে নেন তিনি। চিন্নাস্বামীর পিচ তাঁর চেয়ে ভালো আর কে জানবে! কেএলের ৫৩ বলে ৯৫ নট আউটে রয়েছে সাতটি চার ও ছয়টি ছক্কা। তিনি যখন ক্রিজে গিয়েছিলেন তখন ১০ রানে দুই উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে দল। কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরেন অভিষেক পোড়েল। ক্যাপ্টেন অক্ষর প্যাটেল নবম ওভারে ফেরার সময় স্কোর ছিল ৫৮-৪। সেখান থেকে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে ৫৫ বলে ১১১ রান যোগ করে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন রাহুল।
ম্যাচ-জেতানো ইনিংস নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘এটা একটু কঠিন পিচই ছিল। তবে আমি ২০ ওভার ধরে কিপিং করেছি। স্টাম্পের পিছনে লম্বা সময় ধরে দাঁড়িয়ে দেখেছি পিচে বল পড়ে কীভাবে সামান্য থমকে আসছিল। তবে অসমান বাউন্স ছিল না। তাই জানতাম, কোন কোন শটগুলো খেলা উচিত।’
রাহুলের প্রথম ২৯ রান আসে ২৯ বলে। তারপর হাত খোলেন তিনি। পরের ৬৪ রান আসে মাত্র ২৪টি ডেলিভারিতে। তাঁর কথায়, ‘এমন পিচে ঠিক কোথায় কোথায় মারতে হবে তা জানতাম। কারণ কিপিংয়ের সময় দেখেছিলাম, প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা কোন ভুলের জেরে আউট হয়েছিল, আর কোন জায়গা দিয়ে ছক্কা মেরেছিল। সেটা মাথায় রেখে ব্যাট করেছি।’
আরসিবি’র মেন্টর দীনেশ কার্তিক বলেছেন, ‘টি-২০ ক্রিকেটে বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করা মোটেই সহজ নয়। কিন্তু রাহুল সেটাই দারুণভাবে করে চলেছে।’