


নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। বুধবার মধ্যরাতে কোরানের উপর হাত রেখে ম্যানহাটনের পরিত্যক্ত ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি। ১ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে তাঁর কার্যকাল শুরু হয়েছে। আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহরের মেয়র পদে শপথ নিয়ে জোহরানের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, এই সম্মান অত্যন্ত গর্বের। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মনে থাকবে।
মামদানির এই শপথ ঐতিহাসিক। তিনিই নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র, যাঁর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার যোগ রয়েছে এবং যিনি আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেছেন। সবচেয়ে কম বয়সে (৩৪) শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার নজিরও এখন তাঁর দখলে। শুধু তাই নয়, ম্যানহাটনের এই সাবওয়ে স্টেশনটির সঙ্গেও জুড়ে রয়েছে ইতিহাস। নিউ ইয়র্কে প্রথম দফায় তৈরি হওয়া ২৮টি স্টেশনের মধ্যে এটি অন্যতম। পার্ক রো ও সিটি হল পার্কের নীচের এই সাবওয়ে স্টেশনটি ১৯০৪ সালে চালু হয়। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এই আম জনতার কাছে স্টেশনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, তোরণ আকৃতির চোখধাঁধানো ছাদের জন্য এর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু, শপথ গ্রহণের জন্য এই পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনকেই কেন বেছে নিলেন তিনি? এই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন মামদানি। তাঁর বক্তব্য, আমাদের শহরের ঐতিহ্য ও গণপরিবহণকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেই এই সিদ্ধান্ত। শহরের পরিবহণ কমিশনার পদে মাইক ফ্লিনকে নিয়োগ করেছেন তিনি। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, শহরের অন্যতম প্রাচীন পরিকাঠামোর সঙ্গে বর্তমানের যোগসূত্র তৈরি করতেই মামদানি পরিকল্পনা করে এই স্থানটি বেছে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা নাগাদ সিটি হলে ফের সরকারিভাবে শপথ নেন মামদানি। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান মার্কিন সেনেটার বার্নি স্যান্ডার্স। নয়া মেয়র তাঁকে অন্যতম ‘রাজনৈতিক হিরো’ বলে মনে করেন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্ত্রী রামা দুয়াজির সঙ্গে এক কামরার ঘরে থাকেন মামদানি। তবে খুব শীঘ্রই ম্যানহাটনের মেয়রের বাসভবনের বাসিন্দা হতে চলেছেন তাঁরা।