


নয়াদিল্লি: সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্কের। ইতিমধ্যেই একাধিক ইস্যুতে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন। এবার নিজের মালিকানাধীন সংস্থাগুলির একের পর এক শীর্ষকর্তাদের গণইস্তফার সাক্ষী থাকতে হলো তাঁকে। গত একমাসে ‘এক্স’, ‘এক্সএআই’ এবং ‘টেসলা’ থেকে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক পদত্যাগ করেছেন। গত একবছরের সময়কাল ধরলে সংখ্যাটা ১৪। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মাস্কের সংস্থাগুলিতে এহেন ইস্তফার বহর আসলে তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্দরের অস্থিরতাকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। পদত্যাগকারী কর্তাদের অনেকেই কৌশলগত এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মতপার্থক্য, অত্যাধিক কাজের চাপ ও অভ্যন্তরীণ অশান্তি নিয়ে প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন।
মাস্কের সংস্থা থেকে গণইস্তফা প্রদানকারীদের তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন— সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর সিইও লিন্ডা ইয়াকারিনো, এক্সএআই-এর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদয় রুড্ডারাজু, টেসলার সফটওয়্যার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড লাউ ও সেলস বিভাগের প্রধান ওমেদ আফশার। ২০২৩ সালের জুন মাসে এক্স-এর সিইও হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন লিন্ডা। এক্স প্ল্যাটফর্মে তিনি জানিয়েছেন, ‘দু’টি অবিশ্বাস্য বছর কাটানোর পর আমি এক্স-এর সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এলন মাস্কের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ তবে, ইস্তফার নেপথ্যে কোনও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি তিনি। সম্প্রতি মাস্কের এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’ এক্স প্ল্যাটফর্মে ইহুদি-বিরোধী মন্তব্য এবং অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা করে একটি পোস্ট করেছিল। যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়ায়। এর সঙ্গে লিন্ডার ইস্তফার যোগ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে, উদয় এক্স এআই-এর সর্বাধুনিক এআই সংস্করণ ‘গ্রক-৩’ তৈরির অন্যতম কারিগর ছিলেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইস্তফা দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই ওপেন-এআই সংস্থায় যোগ দিয়েছেন। তৃতীয় পদত্যাগী ব্যক্তি ডেভিড লাউ মাস্কের সঙ্গে প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করছিলেন। টেসলার অটোপাইলট প্রযুক্তি ও সফ্টওয়্যারের অন্যতম রূপকার ছিলেন ডেভিড। গত এপ্রিলে মাস্কের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে সংস্থা ছেড়ে দেন তিনি। ওমেদ আফশারও সংস্থার ছাড়ার নেপথ্যে কর্ণধারের অতিরিক্ত রাজনীতি-প্রীতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন।