


ওয়াশিংটন: ‘ওয়ান্ডারফুল গাই’ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দু’চোক্ষের বিষ’ হয়ে উঠেছেন এলন মাস্ক। আর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বিরূপ প্রভাব পড়েছে তাঁর শিল্প সাম্রাজ্যেও। এই অবস্থায় পিছু হটলেন টেসলা কর্তা। ট্রাম্পকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জন্য অনুশোচনাও ধরা পড়ল তাঁর গলায়। বুধবার এক্স হ্যান্ডলে তিনি জানিয়েছেন, ‘গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে আমি বেশ কিছু মন্তব্য করেছি। বড্ড বেশি বলা হয়েছে। এর জন্য আমি অনুতপ্ত।’ এর আগেই অবশ্য মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের বার্তা দেন ট্রাম্প। মার্কিন পড কাস্ট চ্যানেল ‘পড ফোর্স ওয়ান’কে মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, ‘আমার কোনও বিরূপ মত নেই। একটি বিলের বিরুদ্ধে মাস্ক কথা বলেছিলেন। অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয়েছিল তিনি কুৎসিত ভাষায় কথা বলছেন।’ এরপরই ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি মাস্ককে ক্ষমা করবেন কি না? উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তা পারব বলেই মনে করি।’
দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের দৌড় শুরুর সময় থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের হাত ধরাধরি শুরু। এরপর হোয়াইট হাউসের কুর্সিতে বসে নব গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’র দায়িত্ব মাস্কের হাতে তুলে দেন কৃতজ্ঞ ট্রাম্প। তবে সেই সখ্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ওই পদ ছাড়ার পরই ট্রাম্পকে একের পর এক ইস্যুতে নিশানা করেন মাস্ক। একধাপ এগিয়ে টেসলা কর্তা বলেন, তাঁর সাহায্য ছাড়া প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না ট্রাম্প। তবে সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টাইনের সম্পর্ক প্রকাশ করে। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প তখন এলনের সংস্থা স্পেস এক্সের সঙ্গে সরকারের যে কয়েক কোটি ডলারের যে চুক্তি রয়েছে, তা বাতিল করার হুমকি দেন। এরপর ক্রমশ পড়তে থাকে মাস্কের সংস্থাগুলির শেয়ার দর। পরে অবশ্য সব পোস্ট এক্স থেকে ডিলিট করে দেন তিনি।এরপর মাস্কের বুধবারের মন্তব্য ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে বরফ গলাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।