


ঢাকা: ফিরোজা বেগমের কণ্ঠে নজরুল গীতি শুনতে শুনতে মাথা দুলে ওঠে। রবীন্দ্র সংগীতকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সংগীতের এই সোনালি যুগ শীঘ্রই অতীত হতে চলেছে বদলের বাংলাদেশে? সৌজন্যে মহম্মদ ইউনুস সরকারের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের একটি সিদ্ধান্ত। গত আগস্টে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে সংগীত এবং শরীর চর্চা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যদিও সংগীত চর্চা ইসলাম বিরোধী দাবি করে নিয়োগের বিরোধিতায় সরব হয় সেদেশের কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি। শেষপর্যন্ত তাদের বিরোধিতায় নিয়োগ নিয়ে পিছু হটল ইউনুস সরকার।
সোমবার প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিলের কথা ঘোষণা করা হয়। মন্ত্রকের মুখপাত্র মাসুদ আখতার খান বলেন, ‘গত আগস্টে চার ধরনের শিক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই রুল সংশোধন করা হল। নতুন রুলে সংগীত এবং শরীর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে না।’ কট্টরপন্থীদের চাপেই এই সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। উলটে তিনি বলেন, ‘যা বোঝার আপনারাই বুঝে নিন।’
ইউনুসের তদারকি সরকারের আমলে কট্টরপন্থার দাপটের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। কেউ কেউ তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের সঙ্গেও তুলনাও টানছেন। কট্টর ইসলামপন্থীদের দাবি একটাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও বেশি করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। এই অবস্থায় প্রাথমিক স্কুলগুলিতে সংগীত এবং শরীর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জামাতে ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, খিলাফত মজলিস এবং হেফাজতে ইসলাম-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠী। গত সেপ্টেম্বরে একটি সমাবেশে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছিলেন, ‘আপনারা সংগীত শিক্ষক নিয়োগ করতে চান? তাঁরা কী শেখাবেন? আপনি আমাদের সন্তানদের অসম্মানিত, উচ্ছৃঙ্খল এবং চরিত্রহীন করে তুলতে চান? আমরা কখনই তা সহ্য করব না।’ ইসলামপ্রেমী মানুষদের দাবি অমান্য করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। তারপরেই সামনে এল অন্তবর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত।
সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের কাছে আত্মসমর্পণ করল বলে সুর চড়িয়েছেন সে দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তুমুল ক্ষোভের প্রকাশ লক্ষ করা গিয়েছে। একজন লিখেছেন, ‘তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বার্ষিক কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না তাই তো? কোনও দেশাত্মবোধক গান হবে না। ছোটদের মধ্যে গান, ছাড়া, দেশপ্রেম জাগাবেন কী করে? মুক্তির গান শোনাবেন কী করে? ও আচ্ছা, মুক্তিযুদ্ধই তো হয়নি এখানে। মুক্তিযুদ্ধের গান থাকবে কীভাবে? ভাগ্যিস আগে জন্ম নিয়েছিলাম। লজ্জা হয়!’