


ঢাকা: ১৭ বছরের নির্বাসন পর্বে ইতি! দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে পা রাখলেন খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা বিমানবন্দরের বাইরে বেরিয়ে লাগোয়া বাগানে খালি পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। হাতে তুলে নেন একমুঠো মাটি। তারপরেই যে কোনও মূল্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দেন। কোনও ধরনের প্ররোচনার মুখে দেশবাসী যাতে শান্ত থাকেন, জনসভায় সেই আর্জিও জানান।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে (স্থানীয় সময়) ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তারেক, স্ত্রী জুবাইদা এবং কন্যা জাইমা। সঙ্গে ছিল তাঁদের পোষ্য সাইবেরিয়ান বিড়াল জেবুও। বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্য এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে ফোন করেন তারেক। প্রায় এক ঘণ্টা পর, দুপুর ১২টা ৪১ মিনিটে বুলেটপ্রুফ বাসে চেপে তিনি রওনা হন পূর্বাচলের গণসংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে। খালেদা-পুত্রকে স্বাগত জানাতে পথে হাজির ছিলেন বিএনপির লক্ষাধিক নেতা-কর্মী। উপচে পড়া ভিড় ঠেলে মাত্র ৭ কিলোমিটার রাস্তা যেতে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
বিকেল চারটে নাগাদ মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। তাঁর প্রথম সম্বোধনই ছিল, ‘প্রিয় বাংলাদেশ!’ মার্কিন মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান!’ কী সেই প্ল্যান? সেটা না জানালেও তিনি জানিয়েছেন, দেশকে গড়ে তোলার জন্যই সেই বিশেষ পরিকল্পনা। তা সফল করার জন্য প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারেক আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমনই সর্বস্তরের মানুষ এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তাঁরা গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়। সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ফিরতে পারে।’
ওসমান হাদির খুনের পর থেকেই হিংসায় উত্তাল বাংলাদেশ। তারেকের এদিনের ভাষণেও এসেছে হাদির কথা। তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে জানান তিনি। সেই সঙ্গেই বিশেষ জোর দেন দেশে শান্তি ফেরানোর উপর। পরপর তিনবার বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই।’
তারেকের প্রত্যাবর্তন ঘিরে আশায় বুক বাঁধছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ফলে প্রবল চাপে জামাত। এদিন সমাবেশ শেষে মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তিনি। সেই রাস্তাতেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লাল-সবুজ বাসটি হাসপাতালের সামনে পৌঁছোতেই ওঠে স্লোগান— ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এরপরই দুর্নীতির মামলায় আটক হয়ে প্রায় ১৮ মাস জেলবন্দি ছিলেন তারেক। অসুস্থতার কারণে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি লন্ডনে চলে যান। গত বছর গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তারেক রহমানের ফেরার অপেক্ষায় ছিল বিএনপি।