


ইসলামাবাদ: রুক্ষ পাহাড়ি এলাকা দিয়ে তখন এগিয়ে চলেছে জাফর এক্সপ্রেস। হঠাৎই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। তারপরই এলোপাথাড়ি গুলির শব্দ। বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করে নেয়। তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। প্রাণভয়ে কেউ বিহ্বল হয়ে পড়ে, কেউ কেউ আবার দিশাহারা হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। এই দমবন্ধকর পরিস্থিতি থেকে যে যাত্রীরা মুক্তি পেয়েছেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও তাঁরা আতঙ্কের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। বুধবার সকালে মুহম্মদ আশরফ নামে এক যাত্রী বলেন, জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিন। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। ওখানে শতাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী ছিল। শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের তারা কোনও ক্ষতি করেনি। আর এক মহিলা যাত্রী বলেন, বিস্ফোরণের সময় আমরা ট্রেনেই ছিলাম। তারপর ট্রেন থেকে নেমে আসতে বলা হয়।
ওই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ট্রেনের যাত্রীদের। তাঁরা জানিয়েছেন, ট্রেন হাইজ্যাকের পর বিদ্রোহীরা সকলের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হামলার ঘটনায় একই কৌশল নিয়েছে বিএলএ। মূলত প্রদেশের বাইরের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। এক যাত্রী বলেন, বিদ্রোহীরা ট্রেনে উঠে ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র ও সার্ভিস কার্ড পরীক্ষা করছিল। আমাদের চোখের সামনেই দুই সেনা-জওয়ানকে গুলি করে মেরে দেয়। আরও চারজনকে সঙ্গে করে ট্রেন থেকে নেমে যার তারা। পাঞ্জাবিদের আলাদা করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।