


নেপি দ: প্রাসাদ, মন্দির আর প্যাগোডার ভূমি মান্দালয় যেন মৃত্যুপুরী! দেড় হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। এক উদ্ধারকারী বলেন, ভূমিকম্পের পরপরই ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে কাতর আর্তি কানে আসে। কোনও কিছু না পেয়ে হাত দিয়েই কংক্রেটের চাঙড় সরাতে শুরু করি। নিজেকে তখন অসহায় লাগছিল।
কোনওক্রমে রক্ষা পাওয়া এক মহিলা বলেন, ভেঙে পড়া একটা হোটেলের নীচ থেকে আর্তনাদ কানে আসছিল। ধ্বংসস্তূপে আটক এক মা তাঁর সন্তানদের বাঁচানোর কাতর আর্জি জানাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন। প্রাণে রক্ষা পাওয়া এক বাসিন্দা বলেন, ভূমিকম্পর সময় আমি ওয়াশরুমে ছিলাম। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর বাকিদের সঙ্গে অন্য একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিই। আফটার শকের প্রবল ধাক্কায় সেই বাড়িটিও ভেঙে পড়ে। আমার ঠাকুমা, কাকা ও কাকিমা এখনও নিখোঁজ। তাঁদের হয়তো আর কোনওদিন ফিরে পাব না। উদ্ধারকারীরা বলছেন, মান্দালয়ের আশপাশের গ্রামগুলির অবস্থাও ভয়াবহ। এক গ্রামবাসী বলেন, আমাদের এখানে সব মন্দির ও প্যাগোডা ভেঙে পড়েছে। আমাদের সব শেষ হয়ে গিয়েছে। মান্দালয়ের কিয়াউকসেতে একটি স্কুল ভেঙে পড়ে ১২টি শিশু ও এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। রেড ক্রসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভেঙে পড়া একটি বহুতলের নীচে অন্তত ৯০ জন চাপা পড়ে রয়েছেন। হাসপাতালগুলিতে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গেই রক্ত ও ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে।