


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ব্যবসায়ীর বাড়িতে আয়কর হানার নাম করে লুটপাট! সেই কাণ্ডের তদন্তে নেমে বাগুইআটি থানার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক ইনসপেক্টর সহ ৫ জন সিআইএসএফ (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স) জওয়ান। ওই ঘটনায় পাঁচজন জওয়ানকেই সাসপেন্ড করেছে সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষ। এই কাণ্ডে আরও দুই সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস। তাঁদের মধ্যে একজন ধৃত সিআইএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশিতে ঢুকেছিলেন। অন্যজন হলেন এক মিডলম্যান, যিনি ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় পক্ষের ধৃত স্ত্রীর সঙ্গে সিআইএসএফের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ মার্চ রাত ২টোর সময় বাগুইআটির চিনারপার্কে প্রয়াত ব্যবসায়ী বিনোদকুমার সিংয়ের বাড়িতে আয়কর দপ্তরের নামে তল্লাশি হয়েছিল। যাঁরা তল্লাশি করেছিলেন, তাঁরা প্রচুর সোনার গয়না এবং তিন লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দেন। ওই ঘটনায় বিনোদবাবুর মেয়ে বিনীতা সিং আয়কর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তারা কোনও তল্লাশি করেনি। তারপরই তিনি বাগুইআটি থানায় অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর সৎমা আরতি সিং এই কাণ্ডে যুক্ত বলেও অভিযোগ করেছিলেন। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস পাঁচজন সিআইএসএফ জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হন সৎমা আরতি সহ আরও তিনজন। সম্পত্তির লোভে আরতি সিআইএসএফকে দিয়ে এই অপরাধ করিয়েছিলেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আরতি ফরাক্কা থেকে ধৃত সিআইএসএফ ইনসপেক্টরের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করেছিলেন। ওই ইনসপেক্টর ও আরতি দু’জনে মিলেই আয়কর দপ্তরের হানার পরিকল্পনা করে। তাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগকারী ওই সন্দেহভাজন আত্মীয় তথা মিডলম্যানের খোঁজ চলছিল। সেই সঙ্গে দেখা হচ্ছে, আরতির সঙ্গে ওই সিআইএসএফ ইনসপেক্টরের কোনও পূর্ব পরিচয় ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়ীর মেয়ে অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ৬ জন তাঁদের বাড়িতে ঢুকেছিলেন। পুলিস জানতে পেরেছে, এর মধ্যে পাঁচজনই ধৃত সিআইএসএফ। ধরা না পড়া ওই সন্দেহভাজনের খোঁজ শুরু হয়েছে। এই দু’জন ধরা পড়লে আরও নতুন তথ্য বেরিয়ে আসবে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে বিএনএসের ৬১ (২), ৩০৩ (২), ৩১৯ (২), ৩১৮ (৪), ৩১৬ (২), ৩৩৬ (৩), ৩৩৮, ৩৪০ (২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সিআইএসএফের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা ইতিমধ্যেই ওই পাঁচজন জওয়ানকেই সাসপেন্ড করেছি। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। তদন্তের পর ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধেই আমরা বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করব।