


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: বন্যা পরিস্থিতিতে ১৯টি ব্লকের ২১৫৬টি মৌজা কৃষিতে ক্ষতিগ্রস্ত বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। বুধবার জেলাশাসক এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। তারপর বৃহস্পতিবার জেলা কৃষিদপ্তরের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চেয়ে রাজ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির ফাইনাল রিপোর্ট পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ চাওয়া হয়েছে। ওই অর্থ আসার পরই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করা হবে এবং তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার জেলা কৃষিদপ্তরের উপ অধিকর্তা(প্রশাসন) সুকান্ত সিংহরায় বলেন, বুধবার জেলাশাসক ক্ষতিগ্রস্ত মৌজাকে নিয়ে নোটিফিকেশন করেছেন। বৃহস্পতিবার ফাইনাল রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ চাওয়া হয়েছে।
গত ১৬আগস্ট থেকে টানা দু’-তিনদিনের বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। ভগবানপুর, পটাশপুর, চণ্ডীপুর, এগরা, রামনগর, নন্দীগ্রাম, নন্দকুমার সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিতে ধান, পান, সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ৯৩হাজার হেক্টর ধানের কৃষিজমি জলের তলায় চলে যায়। এছাড়া, পান, সবজি ও ফুলচাষে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকে জরুরিভিত্তিতে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। তারভিত্তিতেই জেলাশাসক ক্ষতিগ্রস্ত মৌজা হিসাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবে চিহ্নিত করার অর্থ, সেখানকার চাষিরা সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবেন। গত ৩১ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম-২ব্লকের রেয়াপাড়ায় সরকারি সভা থেকে বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাবেন বলেও ঘোষণা করেছিলেন। তারপরই কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়। কৃষিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী জেলাশাসক ক্ষতিগ্রস্ত মৌজা ঘোষণা করেছেন। প্রয়োজনীয় অর্থ চেয়ে বৃহস্পতিবারই চিঠি রাজ্যে চলে গিয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করা হবে।
ভগবানপুর, চণ্ডীপুর, নন্দকুমারের অনেক জায়গা এখনো প্লাবিত। মাঠ থেকে জল নামছে না। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খাল ও ক্যানেল থেকে মাটি কাটার পরেও অনেক জায়গা থেকে জল নামছে না। ধান চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। নতুন করে ধান রোপণ করার সুযোগ নেই। এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে দাঁড়াতে চায় রাজ্য। সেইমতো কৃষিদপ্তরের তরফে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের খোদামবাড়ি-২গ্রাম পঞ্চায়েতের মনোহরপুর গ্রামের বাচস্পতি জানা, নারায়ণচক গ্রামের পূর্ণেন্দু গিরি, চণ্ডীপুরের জালপাই পঞ্চায়েতের কোড়খালি গ্রামের সরোজ মাইতি আমন ধান রোয়ার কাজ সবে শেষ করেছিলেন। তারপর অতিবৃষ্টিতে প্লাবন পরিস্থিতিতে সেই মাঠ ধুধু করছে।
পূর্ণেন্দুবাবু, সরোজবাবু বলেন, এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। মাঠের দিকে তাকালে চোখে জল চলে আসছে। রাজ্য সরকার পাশে দাঁড়াবে বলে আশা করছি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অর্থকরী ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পান। বিপুল সংখ্যায় পানের বরোজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। চাষিদের মাথায় হাত। পান চাষেও ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।