


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: উপনির্বাচন ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। শাসকদল বিজপি থেকে শুরু করে অন্যান্য দলগুলি এখনও প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। এদিকে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন গোলাম নবি আজাদ। বুধবার জেলা শাসকের কার্যালয়ে এসে মনোনয়ন জমা করেন তিনি।
গোলাম নবি আজাদ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের ছেলে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাবা হুমায়ুনও। এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ শুরু হল। এখন নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই ও পরবর্তী প্রক্রিয়া চলবে। ইতিমধ্যেই দেওয়াল লিখনও শুরু করে দিয়েছেন হুমায়ুন পুত্র।
বিধানসভা ভোটে রেজিনগরের সঙ্গে নওদা আসনেও লড়াই করেছিলেন হুমায়ুন। বিজেপিকে হারিয়ে রেজিনগরে জেতেন ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে। এবার উপনির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী গোলাম নবি আজাদ। মনোয়ন জমা করে তিনি বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আমার বাবা রেজিনগর কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল। এখানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে এসেছি। মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি। আগামীদিনেও থাকব। মানুষও পাশে থাকবে। প্রচারে কোনো সেলিব্রিটি নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেই। অঞ্চল ও বুথ নেতৃত্বই প্রচারে থাকবে। অবশ্যই আমার বাবা তো থাকবেই।’
মঙ্গলবারই সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন কবীর সব বিরোধীদের একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৬টি আসনে বিরোধীরা জিতেছে। এর মধ্যে তৃণমূলের ৮০’র বেশি, কংগ্রেসের ২টি, সিপিএমের ১টি ও আইএসএফের ১টি এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একজন বিধায়ক রয়েছেন। এই ৮৬ জন বিধায়ক যদি ইগো ভুলে এককাট্টা হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়লে বিজেপিকে রোখা সম্ভব।’ তাঁর এই আর্জির পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি নিজের গড় রেজিনগরেও হারের ভয় পাচ্ছেন হুমায়ুন?
এদিকে, রেজিনগর উপনির্বাচনে রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বসল বিজেপি। বুধবার বহরমপুরের শিল্প তালুকের একটি হোটেলে আয়োজিত ওই বৈঠকে ছিলেন রাজ্য ও জেলার নেতারা। ছিলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ, বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন প্রমুখ। মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই তিন দিনের মধ্যেই বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করবে। আমাদের বৃহত্তর দল। দলের মধ্যেও গণতন্ত্র রয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হবে। এটা এমন নয় যে, যার দল তার ছেলেকে প্রার্থী করে দেবে। আমরা প্রার্থী দেব এবং জিতব।’ বিজেপির জেলা সভাপতি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সর্ব ভারতীয় দল আমাদের। এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা হবে। তার আগেই আমরা প্রস্তুতি সেরে রাখছি। নির্বাচনে আমরাই জিতব।’