


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: সাত-আট বছর ধরে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী রেজিস্ট্রার, কন্ট্রোলার, ফিনান্স অফিসার, ইনসপেক্টর অব কলেজেস নেই। কিছু ক্ষেত্রে অস্থায়ীদের দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। গত প্রায় ছ’মাস ধরে ডিন নেই। সব মিলিয়ে নেই প্রায় ১৪ জন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক। বহুদিন ধরে চারশোর বেশি অশিক্ষক কর্মচারীর পদ খালি পড়ে। এবারে ছাত্র ভর্তির সংখ্যাও তলানিতে ঠেকেছে। অনেক বিভাগে শূন্য থেকে শুরু করে দুই-তিনজন ছাত্র ভর্তি হয়েছেন। অর্ধেক আসন খালি পড়ে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বারের জন্য অনলাইনে ও সরাসরি ভর্তি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক ‘নেই রাজ্যের’ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই ‘ভয়াবহ শূন্যতা’ কবে কাটবে তারও সঠিক কোনো দিশা নেই।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিত বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। সেই সঙ্গে স্থায়ী রেজিস্ট্রার থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ একডজন আধিকারিকের পদ ফাঁকা। চার শতাধিক অস্থায়ী কর্মীর পদ শূন্য। ডিনও নেই। এই শূন্যতা কবে কাটবে, আমরা সেই আশায় রয়েছি। তবে শিক্ষা বিল পাশের পর সেটি দেখে তারপরেই এ ব্যাপারে কোনো মতামত দেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের আশা, অতিদ্রুত উপাচার্য নিয়োগ হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে কাউকে অন্তর্বর্তী তা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হোক। যাতে আমরা স্থগিত হয়ে থাকা গবেষণার কাজ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১০০ শিক্ষকের পদ খালি পড়ে। কলেজের ক্ষেত্রে মিউচিয়াল ট্রান্সফার হয়। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তা ছিল না। এবারে কী নিয়ম বর্তায় সেটা দেখার অপেক্ষায় উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। এক্ষেত্রে আগামী দিনে যদি সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনুপাতে শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা বিচার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির থেকে শিক্ষকদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি করে তাহলে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা মিটতে পারে।
কিন্তু, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ মাস ধরে উপাচার্য নেই, ব্যাপক শিক্ষক ও কর্মী ঘাটতি সেখানে দ্রুত পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব? প্রায় সাত বছর ধরে এখানে সমাবর্তন হয় না। প্রচুর পরিমাণ গবেষণার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বহু পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান বাকি। এই আবহে উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলনলচে পর্যন্ত সংস্কার না করলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা খুবই দুষ্কর বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই শিক্ষা বিল পাশ ও পরে তা আইনে রূপান্তরিত হয়ে আসার পর উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে উপকৃত হবে সেদিকেই তাকিয়ে তথ্যভিজ্ঞমহল। • ফাইল চিত্র।