


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুমোরটুলিতে বিশ্বকর্মা প্রতিমার বায়না ক্রমশ কমছে। কিছু শিল্পীর বক্তব্য, গত এক যুগের বেশি সময় ধরেই এই ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। কুমোরটুলি সূত্রের খবর, গত বছর বিশ্বকর্মা প্রতিমার মোট বায়না ছিল সাড়ে চারশো। এবার সেই সংখ্যাটা চারশোর কিছু বেশি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো। তাই নতুন করে আর খুব একটা বায়নার পাওয়ারও সম্ভাবনা নেই। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্তা বাবু পাল বলেন, একটা সময় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজারের মতো বিশ্বকর্মার বায়না মিলত। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে, সংখ্যটা ক্রমেই কমছে। আমরা যে ক’টা বিশ্বকর্মার বায়না পাচ্ছি, তার থেকে একটিও বেশি ঠাকুর তৈরি করছি না। কারণ অতিরিক্ত ঠাকুর তৈরি করা হলে তা বিক্রি নাও হতে পারে।
পটুয়াপাড়ার বিভিন্ন মৃৎশিল্পীরা বলেন, একটা সময় হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর শিল্পাঞ্চল থেকে বিশ্বকর্মা ঠাকুরের বায়না ভালোই মিলত। বহু কলকারখানায় বিভিন্ন সাইজের ঠাকুর শোভা পেত। অনেকটা প্রতিযোগিতার ব্যাপারও ছিল, কে কত বড় বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতে পারে। কিন্তু এখন অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ। ফলে পুজোর সংখ্যাও কমে আসছে। বনমালী সরকার স্ট্রিটের মৃৎশিল্পী রাজা পাল বলেন, গত আট বছরে ওই তিন জেলা থেকে একটিও বিশ্বকর্মার বায়না পাইনি। যে ক’টি বায়না পেয়েছি, তা সবই কলকাতা ও সন্নিহিত এলাকা থেকে।
শিল্পী চায়না পাল বলেন, হাতে গোনা বিশ্বকর্মা ঠাকুরের বায়না পেয়েছি। তাই ওনিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাই না। বরং সামনে গণেশ ও দুর্গা পুজো। সেই নিয়েই ব্যস্ত আছি। শিল্পী জয়ন্ত পাল বলেন, এবার মাত্র দু’একটি বিশ্বকর্মার বায়না পেয়েছি। তাতে তো পেট চলবে না। তার তুলনায় বেশি পরিমাণে বড়মাপের গণেশের বায়না পেয়েছি। এখন সেই গণেশ তৈরি একবারে শেষ পর্যায়ে। তা নিয়েই ব্যস্ত আছি।
এদিন কুমোরটুলির বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মৃৎশিল্পীর ঘরে বিশ্বকর্মা তৈরি নিয়ে নেই কোনও ব্যস্ততা। কয়েকজন শিল্পীর ঘরে দেখা যায়, সবে মাত্র বাঁশের কাঠামোর ওপর বিচালি বাঁধার কাজ চলছে। কোথাও আবার মাটির উপর পড়েছে প্রাথমিক রঙের প্রলেপ। কোনো কোনো মৃৎশিল্পী জানান, তাঁরা এবার বিশ্বকর্মার বায়নাই পাননি। শিল্পী সমর পাল, বরুণ পালরা জানান, সামনে গণেশ চতুর্দশী। আগে গণেশ তৈরি করছি। তা মিটে গেলে হাতে গোনা যে ক’টি বিশ্বকর্মার বায়না পেয়েছি, তাতে হাত দেব।