


ব্যাংকক: ভয়াবহ ভূমিকম্পে তছনছ মায়ানমার। প্রভাব পড়েছে থাইল্যান্ডেও। ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে ব্যাংককের একটি নির্মীয়মান বহুতল। সূত্রের খবর, ৩০ তলার এই ভবনটি তৈরির দায়িত্বে ছিল চীনের একটি সংস্থা। রবিবার বিনা অনুমতিতে ওই বহুতলের ভিতরে ঢুকে নথি সরানোর অপরাধে চার চীনা নাগরিককে আটক করল থাইল্যান্ড পুলিস।
মেট্রোপলিটন পুলিস ব্যুরোর মেজর জেনারেল নোপাসিন পুলসাওয়াত জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া বহুতলের এলাকাটিকে ‘ডিজাস্টার জোন’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বিনা অনুমতিতে কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না। এর মধ্যেই পুলিসের কাছে খবর আসে, কয়েকজন ওই বহুতলের ভিতরে ঢুকেছেন। সেখান থেকে তাঁরা কিছু সরানোর চেষ্টা করছেন। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিস আধিকারিকরা। তাঁরা দেখেন, ভেঙে পড়া স্টেট অডিট অফিসের পিছনের অংশ দিয়ে ভিতরে ঢুকেছেন চারজন। সেখান থেকে ৩২টি ফাইল সরানোর সময় ওই চার চীনা নাগরিককে আটক করা হয়।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতদের একজন নিজেকে ওই বহুতল নির্মাণ সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার বলে দাবি করেন। কিন্তু বাকি তিনজন ওই এলাকায় ঢুকেছিলেন বেআইনিভাবে। যদিও অন্যরা দাবি করেন, এক সাব-কন্ট্রাক্টরের অধীনে তাঁরা কর্মরত। বিমা সংক্রান্ত প্রয়োজনে তাঁরা ওই কাগজপত্র উদ্ধার করতে এসেছিলেন। ওখানে একটি কন্টেইনারকে অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তার মধ্যেই ছিল বহুতল তৈরির নকশা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত দরকারি কাগজপত্র। জিজ্ঞাসাবাদের পর চারজনকেই সাময়িকভাবে ছেড়ে দেয় পুলিস। পরে জানা গিয়েছে, ওই চারজনের পাশাপাশি তাঁদের নিয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তের আওতায় এনেছে চাতুচাক জেলা অফিস।
জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার মায়ানমারের ভূমিকম্পের ধাক্কায় চোখের নিমেষে ভেঙে পড়েছিল ওই বহুতলটি। মৃত্যু হয় ১১ জনের। ভিতরে আটকে পড়েন অনেকে। তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কী কারণে ওই নির্মীয়মাণ বহুতলটি ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংকক প্রশাসন। পাশাপাশি, শক্তিশালী ভূমিকম্প সামলাতে বহুতলগুলি কতটা সক্ষম, তা খতিয়ে দেখার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।