


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয়কৃষ্ণ প্রধানের নামে একটি ভুয়ো শোকজ চিঠি তৈরি করে তা কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। প্রাথমিকভাবে বিজেপিরই একাংশকে সন্দেহ করা হলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্তের দাবি উঠেছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই কেশপুরের বিজেপি নেতা তথা সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী শুভেন্দু সামন্তকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে দলবিরোধী কার্যকলাপ, কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয় প্রদর্শন, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, তোলাবাজি এবং দলীয় কর্মীদের শারীরিক হেনস্থার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ ছিল। ওই চিঠি ঘিরে তখনও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
কিন্তু সম্প্রতি সামনে আসে আরেকটি শোকজ নোটিস। যা ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয়কৃষ্ণ প্রধানের নামে তৈরি বলে দাবি। চিঠিটি খতিয়ে দেখে জানা যায়, শুভেন্দু সামন্তকে পাঠানো আসল শোকজ নোটিসের সঙ্গে এর বিস্ময়কর মিল রয়েছে। শুধু অভিযোগের ভাষাই নয়, চিঠিতে ব্যবহৃত রেফারেন্স নম্বর পর্যন্ত হুবহু প্রায় একই রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে চিঠিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা বিজেপির অন্দরে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র কারও বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর চেষ্টা নয়, বরং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশও হতে পারে। বিশেষ করে কেশপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার এবং নেতৃত্বের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও কেশপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে তৃণমূল প্রার্থী প্রায় ৫০ হাজার ভোটে জয়ী হন। তবে নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছেই। একদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে বিজেপিও দ্রুত সংগঠন সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষত মহিলা সংগঠনের ক্ষেত্রে বিজেপির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, নেতাকর্মীদের একাংশ অন্য গোষ্ঠীর উত্থান মেনে নিতে পারছেন না। ফলে একে অপরকে কোণঠাসা করতে নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে। ভুয়ো শোকজ চিঠি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও সেই দ্বন্দ্বেরই অংশ কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, আমার কাছে দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশিকা আসেনি। ফলে চিঠিটির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা সহ সভাপতি অজয়কৃষ্ণ প্রধান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। শোকজ করার মতো কোনো কাজ আমি করিনি। দলের পক্ষ থেকেও আমার কাছে কোনো শোকজ নোটিস আসেনি। যে চিঠি ছড়ানো হয়েছে, সেটি ভুয়ো। শুভেন্দু সামন্তকে পাঠানো চিঠির সঙ্গে আমার নামে ছড়ানো চিঠির বিস্তর মিল রয়েছে। আমার বিশ্বাস, বিজেপিরই কিছু ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিজেপির উচিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা।