


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মীর পদ শূন্য। উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকাঠামোও দুর্বল। তাই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদকে নতুনভাবে সাজানো হবে। বৃহস্পতিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে একথা বলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আজ, শুক্রবার তিনি এব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও মহকুমা পরিষদের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘ধান্দাবাজদের গ্যাং’ বলে কটাক্ষ করেন।
তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত মহকুমা পরিষদে অনিয়মের অভিযোগ অনেক দিনের। ইতিমধ্যে মহকুমা পরিষদ নিয়ে গলা ফাটিয়েছেন বিরোধী দলনেতা বিজেপির অজয় ওরাওঁ এবং অর্থদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। তাঁরা এখানকার দুর্বল পরিকাঠামো নিয়েও রাজ্য সরকারকে জানিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে এদিন কলকাতা থেকে শিলিগুড়িতে আসেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহকুমা পরিষদের পরিকাঠামো নেই। এবার সংশ্লিষ্ট পরিষদ নতুনভাবে সাজিয়ে তুলব। এজন্য কোথায়, কত কর্মী প্রয়োজন সে বিষয়ে পরিষদের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করব।
পঞ্চায়েতমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তৃণমূলের অরুণ ঘোষ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কর্মী নিয়োগ হয়নি। মহকুমা পরিষদেই প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মীর পদ শূন্য। এর বাইরে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতেও অসংখ্য কর্মীর পদ ফাঁকা। ফলে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে। কাজেই মন্ত্রীর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তা বাস্তবায়িত হলে এখানে উন্নয়নমূলক কাজে জোয়ার আসবে।
এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদেলর পরই তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরেছে। বিধানসভা ও লোকসভা দুই জায়গাতেই তৃণমূলের সদস্যরা বিভক্ত। এনিয়েই তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোটে হারার পর তৃণমূল দলটাই শেষ হয়ে যাবে। তা আগেই বলেছিলাম। তৃণমূল একটি গ্যাং। কিছু ধান্দাবাজ লোক ধান্দা হবে না ভেবেই দল ছাড়ছে। ঘুরে ফিরে কংগ্রেসেই যেতে হবে তৃণমূলকে।
শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম দেব অবশ্য বলেন, তৃণমূলকে নিয়ে ভাবতে হবে না পঞ্চায়েতমন্ত্রীকে। তিনি মানুষের রায়ে জিতেছেন। এখন মানুষের জন্য কাজেই মনোনিবেশ করুন। • নিজস্ব চিত্র।