


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শহরের বুক চিরে যাওয়া প্রধান রাস্তায় নিত্যদিনের যানজট। যার জেরে নাভিশ্বাস ওঠে সাধারণ মানুষের। সিউড়িবাসীর সেই দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে এবার উদ্যোগী হল প্রশাসন। সদর শহরের মূল রাস্তার সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি করতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা রাস্তায় নেমে মাপজোখের কাজ শুরু করেছেন। তিলপাড়া জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে এসপি মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও রবীন্দ্রপল্লি হয়ে ফের জাতীয় সড়ক পর্যন্ত গোটা রাস্তাটির সার্ভের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে শহরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি গড়ে মাত্র সাত মিটার চওড়া। ক্রমবর্ধমান গাড়ির চাপ সামলাতে সেটিকে বাড়িয়ে অন্তত দশ মিটার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে রাস্তার দু’ধারে পেভার ব্লক দিয়ে সুদৃশ্য ফুটপাত তৈরিরও ভাবনা রয়েছে। তবে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বিদ্যুতের খুঁটি এবং মাটির তলার জলের পাইপলাইন। সেগুলো সঠিকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। ঠিক সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সবকটি দপ্তরের কর্তাদের নিয়ে মঙ্গলবার প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ চলেছে।
গোটা বিষয়টি নিয়ে পূর্ত দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রমোদ মণ্ডল বলেন, ‹প্রাথমিক একটি সমীক্ষা করে দেখা হল। আমরা প্রশাসনের কাছে এই সার্ভে রিপোর্ট জমা দেব। এর সঙ্গেই একটি ডিপিআর তৈরি করে পাঠানো হবে। এরপর উপরমহল থেকে যেরকম নির্দেশ আসবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী কাজ শুরু হবে।›
উল্লেখ্য, সিউড়ি শহরের যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হল যথেচ্ছ জবরদখল। রাস্তার দু›পাশের ফুটপাত দখল করে গজিয়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাটের জেরে গাড়ি চলাচলের পরিসর মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আক্ষেপ, পূর্বতন সরকারের জমানায় একাধিকবার ফুটপাত দখলমুক্ত করে রাস্তা চওড়া করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তা কখনওই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের পুরনো চেহারায় ফিরেছে শহর। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর যানজটমুক্ত প্রশস্ত রাস্তার দাবিতে প্রশাসনের এই নয়া পদক্ষেপকে যথেষ্ট ইতিবাচক চোখেই দেখছেন সিউড়ির সাধারণ মানুষ।