


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শুধু ওয়ার্ড ভাঙা নয়, এবার বাড়তে পারে শিলিগুড়ি পুরসভার আয়তন। এজন্য মাটিগাড়া ও রাজগঞ্জ ব্লকের একাংশ জুড়তে পারে পুরসভায়। শনিবার পুরভবনে শহরের ডিলিমিটেশন বা সীমানা নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে খবর। শীঘ্রই রাজ্য সরকারের কাছে এ ব্যাপারে ফের প্রস্তাব পাঠাবে পুরকর্তৃপক্ষ। এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলিও ডিলিমিটেশনের পক্ষে। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম এব্যাপারে সর্বদলীয় বৈঠক করার দাবি তুলেছে।
শিলিগুড়ি পুরসভার সীমানা পুননির্ধারণের দাবি বহুদিনের। প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব এ ব্যাপারে বিগত রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠালেও তা কার্যকর হয়নি। রাজ্যের পালাবদলের পর পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এখানে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সময় আধিকারিকদের একাংশ আসন বিন্যাসের প্রস্তাব দেন। এরপরই পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্য সরকার। এজন্যই এদিন দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির দুই জেলাশাসকের প্রতিনিধি, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সহ পুরসভার আধিকারিকরা বৈঠক করেন।
প্রশাসন সূত্রের খবর, বৈঠকে জায়েন্ট স্ক্রিনে শহর ও সংলগ্ন এলাকার ম্যাপ, এলাকার আয়তন, ভোটার সংখ্যা, জনসংখ্যা, জনঘনত্ব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শহরের বড়ো ও ছোটো ওয়ার্ডগুলির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের বড়ো পুরসভাগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি অন্যতম। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত এই পুরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৭টি। এরমধ্যে বড়ো ওয়ার্ডগুলির মধ্যে ৪৬ নম্বর একটি। ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার। বুথ সংখ্যা ২১-২২টি। আবার কিছু ওয়ার্ড অত্যন্ত ছোটো। বুথ সংখ্যা চার থেকে পাঁচটির মধ্যে। ভোটার সংখ্যাও ৮ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে। প্রশাসন সূত্রের খবর, ১, ৪, ৫, ৩৫, ৩৬, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩ প্রভৃতি বড়ো ওয়ার্ড ভাঙার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাটিগাড়া-১ ও ২ এবং রাজগঞ্জ ব্লকের ডাবগ্রাম-২ পঞ্চায়েতের একাংশ এই পুরসভায় শামিল করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, তৃণমূল সরকার শহরের সীমানা পুননির্ধারণ করতে পারেনি। এবার আমাদের সরকার তা করবে। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) কুন্তল রায় ও সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলার শরদিন্দু চক্রবর্তী দু’জনই বলেন, ঠান্ডা ঘরে বসে ডিলিমিটেশন করলে চলবে না। এ ব্যাপারে সর্বদলীয় বৈঠক করতে হবে।