


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজো যত এগিয়ে আসছে, প্রতিমার রং বিক্রির চাহিদা ততই বাড়ছে বড়বাজারে। কুমোরটুলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মৃৎশিল্পীরা এসে বড়বাজারের পাইকারি মার্কেট থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই রং। বড়বাজারের পণ্ডিত পুরুষোত্তম রায় স্ট্রিটের রং পট্টিতে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে মৃৎশিল্পীদের ভিড়। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, কালো, গোলাপি, খয়েরি— কী রং নেই! কোনো প্যাকেট পাঁচশো গ্রামের, কোনোটি এক কেজির। রমরমিয়ে বিকোচ্ছে সেসব। এই রং সবই প্রতিমা তৈরিতে লাগে। রং ব্যবসায়ী সমীরণ পালের বিক্রিবাটার ফাঁকেই বলছিলেন, ‘প্রতিমার রং আসে মূলত মাদুরাই থেকে। সামনে দুর্গাপুজো। ইতিমধ্যেই প্রথম লটের রং চলে এসেছে। পরের লটের রং কলকাতায় ঢুকবে সামনের সপ্তাহে।’ আরেক ব্যবসায়ী সঞ্জয় সাউ বলেন, ‘পুজোর মরশুম শুরু হয়েছে। তাই প্রতিমার রংয়ের বিক্রিও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। যতদিন যাচ্ছে, রঙের বৈচিত্র্যবাড়ছে। তাই বাজার ধরে রাখতে আমরাও প্রতিনিয়ত নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বর্ধমানের মৃৎশিল্পী স্বপন সরদার ও রাহুল মেটে এসেছিলেন প্রতিমার রং কিনতে। তাঁদের কথায়, ‘দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, আমাদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। তাই কাজের ফাঁকে সময় পেয়ে প্রতিমার রং কিনতে এসেছি কলকাতার পাইকারি বাজারে।’ হুগলির চণ্ডীতলার বাসিন্দা স্বপন পাল ও সুজয় পাল দুই ভাই। তাঁদের বক্তব্য, ‘পাইকারি বাজার থেকে প্রতিমার রং কিনলে কিছুটা সস্তায় মেলে। তাই প্রতি বছর পুজোর আগে এখান থেকেই প্রতিমার রং কিনে যাই।’
নদীয়ার ঘুর্ণি থেকে আসা মৃৎশিল্পী বিষ্ণু পাল ও অজিত পালের কথায়, ‘এখন পর পর পুজো। তাই ১০ রকমের রং কিনলাম। একেকটা এক কেজির প্যাকেট, সব রংই দশ প্যাকেট করে কিনেছি। প্রতিমা তৈরির আনুষঙ্গিক কিছু জিনিসও কিনেছি।’ সব মিলিয়ে জমে উঠেছে বড়বাজারের রঙের বাজার। -নিজস্ব চিত্র