


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাংককর্মী ও অফিসারদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে কিছুটা পিছু হটল কেন্দ্রীয় সরকার। কর্মী ও অফিসারদের জন্য যে ইনসেন্টিভ স্কিম তারা চালু করেছিল, তা আপাতত লাগু হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে যে ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম ইস্যু ছিল এই ইনসেন্টিভ স্কিম। তবে ধর্মঘট হচ্ছেই বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংক পরিষেবা চালু রাখার বিষয়টি নিয়ে এখনও টালবাহানা করছে কেন্দ্র।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সংগঠন ইন্ডিয়ান ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ) এবং ব্যাংককর্মী ও অফিসারদের সংগঠনগুলির সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত ১২তম দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় আগেই। তাতে বলা হয়, ব্যাংকের মুনাফার উপর ভিত্তি করে স্কেল-১ থেকে স্কেল-৭ এর আওতায় থাকা সবাই ইনসেন্টিভ পাবেন একই হারে। কিন্তু সেই চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কেল-৪ থেকে তার উপরের স্তরের অফিসারদের জন্য ইনসেন্টিভের আলাদা হিসাব কষতে নির্দেশ দিয় অর্থমন্ত্রক। এই সিদ্ধান্ত মানতে চাননি কর্মী ও অফিসাররা। শুরু হয় আন্দোলন। তারপরই অর্থমন্ত্রক জানাচ্ছে, উচ্চপদস্থ কর্তাদের জন্য যে ইনসেন্টিভ স্কিম ঘোষিত হয়েছে, তা আপাতত স্থগিত করা হল। বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাজেন নাগর বলেন, ‘আমাদের লাগাতার আন্দোলনে অবশেষে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। আইবিএর সঙ্গে ১৩তম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ওই ইনসেন্টিভ স্কিম নিয়ে আলোচনা হবে।’
অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বুধবার কেন্দ্রীয় শ্রম কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে আমাদের সবকটি সংগঠন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং অর্থমন্ত্রকের প্রতিনিধিরা। সেখানে আমাদের তরফ থেকে দাবি করা হয়, সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংক পরিষেবা চালু রাখার যে ঘোষণা হয়েছে, তা চালু করার একটা সময়সীমা ঘোষণা করা হোক। কিন্তু তা দিতে চায়নি অর্থমন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত দু’বছরের বেশি সময় এই একটি কথাই শোনানো হচ্ছে আমাদের। আমরা আর তা শুনতে চাই না। তাই ধর্মঘট হচ্ছেই।’