


নয়াদিল্লি: চলতি অর্থবর্ষের প্রথম তিনমাসে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি নিয়ে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে কেন্দ্র। অর্থনীতিবিদদের একাংশ স্পষ্ট জানাচ্ছেন, জিডিপির হিসাব জল মেশানো। এই টানাপোড়েনের মাঝেই সামনে এসে গেল দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির বেহাল দশা। দেখা যাচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই—এই চার মাসে গ্রামীণ এলাকায় প্রকৃত মজুরি প্রায় ৮.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ নিয়ে ষষ্ঠবার প্রকৃত মজুরি হ্রাস পেল। গত তিন বছরের মধ্যে একটি ত্রৈমাসিকে এটিই সর্বনিম্ন হার। ‘সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি’র (সিএমআইই) দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে গ্রামীণ এলাকায় গড় মাসিক মজুরি ছিল ২১ হাজার ৫০০ টাকা। জুলাই মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯২২ টাকায়। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, চলতি বছরে ভারতে দেরিতে বর্ষা এসেছে। ফলে খরিফ শস্যের চাষও শুরু হয়েছে অনেকটা পরে। তাই কৃষিক্ষেত্রে কাজের সুযোগ ধাক্কা খেয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। দেখা যাচ্ছে, গ্রামেও খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই মাথাচাড়া দিয়েছে। লাগামছাড়া বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সেই কারণে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার ক্ষমতা একদিকে যেমন কমেছে, তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সংসার চালানোর খরচ। আর তাই শহর এলাকায় প্রকৃত মজুরি সামান্য বাড়লেও তা নগণ্য বলেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিএমআইই জানিয়েছে, মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে গ্রামীণ এলাকায় প্রকৃত মজুরির হার ৫.৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি ২.৭ শতাংশ বেড়েছে। এমন নয় যে, গত মে মাস থেকেই বেড়েছে বাজারদর! আগুনে দামের আঁচে মাসের পর মাস পুড়ছে সাধারণ মানুষ। তাই তারই সঙ্গে মজুরি কমে যাওয়ার কোপ কঠিন করে তুলেছে জীবন যাপন। রিপোর্টটি বলছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে শহরাঞ্চলেও খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বেড়েছে। তবে তা তুলনামূলক কম—২.৪ শতাংশ। সম্প্রতি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াও তাদের একটি রিপোর্ট জানিয়েছিল, ১ জুলাই থেকে দেশে ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে জি রাম জি প্রকল্প চালু হওয়ার পর, সার্বিকভাবে ধসেছে গ্রামীণ কাজ। কারণ, গত বছর জুলাই ও আগস্টে ১০০ দিনের যে কাজ হয়েছিল, চলতি বছরের ওই দু’মাসে তা কমে গিয়েছে ৬০ শতাংশ।
গ্রামের রোজগার যে সত্যিই প্রশ্নের মুখে, সেই তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছে নাবার্ড। তারা একটি সমীক্ষা রিপোর্ট চালিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গত জুলাই মাসে গ্রামের মাত্র ২৭.৭ শতাংশ বাসিন্দা জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাঁদের রোজগার বেড়েছে। বাকিদের হয় একই রোজগার আছে, অথবা কমে গিয়েছে। নাবার্ডের বক্তব্য, গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তারা যখন নিয়মিতভাবে এই সমীক্ষা শুরু করে, তখন থেকে এখনও পর্যন্ত রোজগার বৃদ্ধির হার গত জুলাইতেই সবচেয়ে কম। একাধিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানই বুঝিয়ে দিচ্ছে, জিডিপির গালভরা প্রচারে কিছুতেই ঢাকা যাচ্ছে না গ্রামবাসীর ভালো না থাকার করুণ ছবিটা।