


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মূল্যবৃদ্ধির চাপ যে যথেষ্ট, তা প্রতি মুহূর্তে টের পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের দামই আকাশছোঁয়া। প্রতিদিনের খাবারের পাতেও যে তার আঁচ যথেষ্টই পড়েছে, তা সামনে এল ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল-এর সৌজন্যে। তারা জানিয়েছে, আমিষ হোক বা নিরামিষ, খাবারের পাতে সংকট বেড়েছে দেশের সর্বত্রই।
জাতি, ধর্ম ও অঞ্চল ভিত্তিতে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যা খায়, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমিষ ও নিরামিষ থালির হিসাব কষেছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি। তারা জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে এক প্লেট ঘরোয়া নিরামিষ খাবার তৈরিতে আম জনতার খরচ পড়েছে ২৯.৫ টাকা। গত জুলাই মাসে তা ছিল ২৯.১ টাকা। ২০২৫ সালের আগস্টেও এক প্লেট নিরামিষ খাবারের দাম ২৯.১ টাকা ছিল। তথ্য বলছে, গত ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে প্রায় দেড় বছরে নিরামিষ থালির দাম গত আগস্টেই ছিল সর্বোচ্চ। গত মাসে এক প্লেট আমিষ থালির দাম ছিল ৫৭.৫ টাকা। গত বছর আগস্টে তা ছিল ৫৪.৬ টাকা।
কেন দাম বেড়েছে খাবারের? ক্রিসিলের বক্তব্য, গত মাসে পেঁয়াজের দর ছিল ৪০ টাকা কিলো। এক বছরের নিরিখে দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এক বছরে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ, এলপিজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ শতাংশ। সংস্থাটি জানাচ্ছে, খাবারের দাম আরও বাড়তে পারত। তাতে সামান্য লাগাম টেনেছে তুলনামূলক কম থাকা আলু ও টমেটোর দর। অন্যদিকে, আমিষ থালির মূল খরচ থাকে মূলত মুরগির মাংসে। থালির খরচের ৫০ শতাংশই দখলে রাখে মাংসের দাম। এর দর গত এক বছরে অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে আমিষ পাতে, বলছে ক্রিসিল। তবে সাধারণ মানুষের বক্তব্য, চলতি সেপ্টেম্বরে চিনি, পেঁয়াজ ও মাংসের দর যেভাবে চড়েছে, তাতে গত মাসের থেকে সংকট আরও এক ধাপ বেড়ে গিয়েছে।