


নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: প্রায় বছর ছয়েক আগে মেয়াদ শেষ হলেও, নির্বাচিত বোর্ড গঠন সম্ভব হয়নি রায়গঞ্জ সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায়, এবার ভোটের দাবি তুলছেন এই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বহু গ্রাহক। তাঁদের বক্তব্য, ভোট করে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিলে ব্যাঙ্ক পরিচালনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। গত কয়েক বছর ধরে এই ব্যাঙ্ক পরিচালনার ক্ষেত্রের বিষয়টি ঢিলেঢালা পরিস্থিতিতে চলছিল। রাজ্যের বিগত সরকার ৪ লক্ষাধিক গ্রাহক সম্বলিত কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কটির নতুন বোর্ড গঠনের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে হাল ধরে, প্রশাসক বসালেও গ্রাহকদের দাবি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়ে কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক পরিচালনার জন্য এবার নির্বাচন করা হোক। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও রাজনৈতিক ভাবে ক্ষমতা দখলের একটা চাপা স্রোত দেখা যাচ্ছে। সেখানে এই ব্যাঙ্কে ভোট করে নতুন বোর্ড গঠন হোক। এতে দুশ্চিন্তা কাটবে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের।
রায়গঞ্জ সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নতুন প্রশাসক তথা জেলার ডেপুটি রেজিস্ট্রার অব কো-অপারেটিভ সোসাইটির আধিকারিক সুমন সরকার বলেন, শুধু গ্রাহকরা নন, আমরাও চাই ব্যাঙ্কে ভোট করে নতুন বোর্ড তৈরি হোক। তাই দ্রুত ভোট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত এলে ভোট করে নতুন বোর্ড গঠনের পদক্ষেপ হবে।
এই ব্যাঙ্কের বর্তমানে ১৭টি শাখা রয়েছে। এরমধ্যে ৪টি দক্ষিণ দিনাজপুরে ও ১৪ টি শাখা রয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে। এই ব্যাঙ্কে বছরে প্রায় একহাজার দু’শো কোটি টাকা লেনদেন হয়। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় জেলার এই জনপ্রিয় কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচন হয়। শেষপর্যন্ত অবশ্য কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বোর্ড গঠন হয়। ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হন তৃণমূল নেতা তিলক চৌধুরী। সেই বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালে। তারপর আর ব্যাঙ্কের ভোট হয়নি। তবে তৃণমূল সরকার যত দিন ছিলো ততদিন তিলকবাবু এই ব্যাঙ্কের দায়িত্বে ছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর তিনি পদত্যাগ করেন।