


সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: জয়ের হ্যাটট্রিকে রনজি ট্রফিতে অভিযান শুরু করেছিল বাংলা। কিন্তু, ঘরের মাঠে কি লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের বিজয়রথ থেমে যাবে? মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের শেষে তেমনটাই ইঙ্গিত। প্রথম ইনিংসে বাংলার ১৪৩ রানের জবাবে মহারাষ্ট্র তুলেছে ২১৮। অর্থাৎ, পৃথ্বী সাউদের ঝুলিতে লিড ৭৫ রানের। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে বঙ্গ ব্রিগেডের স্কোর ৪ উইকেট খুইয়ে ৭৬। আপাতত লিড মাত্র ১ রানের। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে বাংলার অবিশ্বাস্য কিছুর করার আশা কম। হার এড়িয়ে মুখরক্ষা হলেই অনেক।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দুরন্ত ফর্মে থাকা বাংলা ইডেনে এমন কোণঠাসা কেন? অবশ্যই বড়ো দায় ব্যাটিং ব্যর্থতা। তাছাড়া বৃষ্টি এবং খারাপ আলোও একটা ফ্যাক্টর। তিন দিনে মাঠে মোট বল গড়িয়েছে ১৪৩ ওভার। উল্লেখ্য, ৯ উইকেটে ২০৭ রান স্কোরবোর্ডে নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল মহারাষ্ট্র। বৃষ্টির কারণে এদিন প্রথম সেশনে বলই গড়ায়নি। লাঞ্চের পর খেলা শুরু হলে প্রদীপকে (২৭) ফেরান মহম্মদ সামি। তনয় সাঙ্গভি ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলার সফলতম বোলার অভিজ্ঞ সামি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতার কবলে পড়ে বঙ্গ-ব্রিগেড। ক্যাপ্টেন অভিমন্যু (৯) ও সুদীপ ঘরামি (১২) ফ্লপ। সুদীপ চ্যাটার্জিরও (০) শনির দশা কিছুতেই কাটছে না। ওপেনার অঙ্কুর পাল (৩২) কিছুটা লড়লেও শেষ বেলায় আউট হয়ে চাপ বাড়ালেন। এখন ক্রিজে অভিষেক পোড়েলের (ব্যাটিং ২৩) সঙ্গী সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (ব্যাটিং ০)। এমন পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রের ৩ পয়েন্ট মোটামুটি পাকা। ইডেন ছাড়ার সময় তনয় সাংভি বলছিলেন, ‘ম্যাচের রাশ আমাদের হাতে। শেষ দিনে জেতার জন্যই অল-আউট ঝাঁপাব।’ আর বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতনের মন্তব্য, ‘ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব। শেষ দিনে ছেলেরা লড়াই করবে।’