


সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: শুক্রবারের পর শনিবারও শহরের আবর্জনা গ্রামে ফেলতে বাধা দেওয়া হল। পুরাতন মালদহ পুরসভার আবর্জনা বোঝাই গাড়ি ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের বেহুলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আটকে দেয় স্থানীয়দের একাংশ। গাড়িচালককে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গাড়িচালক ও স্থানীয়রা বাদানুবাদ ও তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরপর দু’দিন নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ পুরসভা কর্তৃপক্ষ। এই সমস্যা মেটাতে আগামী সোমবার অর্থাত্ ২৭ জুলাই বৈঠক ডেকেছে প্রশাসন।
সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ওই বৈঠকে জেলাশাসক, বিধায়ক, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা থাকতে পারেন।
পুরসভার চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষ বলেন, ওই জমি পুরসভার। সেখানে পুরসভার নিজের জায়গাতেও আবর্জনা ফেলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। খোলা জায়গায় আর্বজনা ফেলা নিয়ে প্রবল আপত্তি ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান প্রভুনাথ দুবের। তিনি বলেন, আমরাই ওই জায়গা পুরসভাকে দিয়েছি। পুর কর্তৃপক্ষ বলেছিল, প্রাচীর তুলে মেশিন বসিয়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হবে। কিন্তু সেভাবে কাজ হচ্ছে না। ফাঁকা জায়গাতেই আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। প্রধান প্রভুনাথের দাবি, দুর্গন্ধের জন্য ব্রিজের ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। তাই আমি লোক পাঠিয়ে বাধা দিয়েছি। কাউকে মারধর করা হয়নি।
পুরাতন মালদহ পুরসভায় ২০ টি ওয়ার্ড। শহরের আবর্জনা ফেলার ডাম্পিং গ্রাউন্ড নেই। শহরের বর্জ্য পৃথকীকরণ করতে কয়েক বছর আগে ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি জায়গা নেয় পুরসভা। সেখানে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প করার কথা পুর কর্তৃপক্ষের।
আগে শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলা হত। যদিও সেখানে আপত্তি ওঠে। এরপর ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্দিষ্ট জায়গাতে আবর্জনা ফেলছিল পুরসভা। সেখানেও আপত্তি জানিয়েছেন বাসিন্দাদের একাংশ। ফলে আবর্জনা নিয়ে চরম বেকায়দায় শতাব্দী প্রাচীন পুরাতন মালদহ পুরসভা। পুর চেয়ারম্যান বলেছেন, আমাদের আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই। এই সমস্যা মেটাতে জেলাপ্রশাসন বৈঠক ডেকেছে। ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তপক্ষকে বৈঠকে ডাকা হলেও প্রধানের দাবি, আমাকে চিঠি দেয়নি।