


সংবাদদাতা, কাটোয়া : কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের চর বিষ্ণুপুর গ্রামটি ভাগীরথীর দুই পাড়েই রয়েছে। এক পাড়ের বাসিন্দারা কাজ সারতে অন্যপাড়ে আসেন৷ আবার ভোটের সময়ও নৌকা করে যাতায়াত করেন তাঁরা। কাটোয়ার চর বিষ্ণুপুর গ্রামটি কয়েক দশকে ভাঙনের জেরে এমন হাল হয়েছে। ফের ভাগীরথীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিনিয়ত নদী পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে জলে। গাছের শিকড় শুদ্ধ জলে উপড়ে পড়ছে। আতঙ্কে ঘুম আসছে না বাসিন্দাদের চোখে। চর বিষ্ণুপুর গ্রামের মানুষরা আতঙ্কের প্রহর গুনছেন। গ্রামটার একপাড়ের অস্তিত্ব কবে ঘুচবে সেই আশঙ্কাতেই ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের।
কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের চর বিষ্ণুপুর গ্রামটির পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। চর বিষ্ণুপুর মৌজায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিনিয়ত নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে জলে। ধীরে ধীরে গোটা গ্রামটাই যেন গিলে নিচ্ছে নদী। গ্রাম ছেড়ে বাসিন্দারা আগেই উঠে গিয়েছে। এখনও চর বিষ্ণুপুরে যে চার পাঁচটি ঘর বাসিন্দা, চাষের জমি রয়েছে তা ভাঙনের জেরে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। কয়েক বছর পর পাকা রাস্তাও গিলে খাবে ভাগীরথী।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৬ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ভাগীরথী ভাঙনে কয়েকবারই তার গতিপথ পাল্টেছে। আর চর বিষ্ণুপুর গ্রামের সঙ্গে বিষ্ণুপুর গ্রামখানি আলাদা করেছে ভাগীরথী। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার অগ্রদ্বীপ অঞ্চলের চর বিষ্ণুপুর গ্রামে একসময়ে ১৪৩৫ জনের বাস ছিল। ১৯৯৮ সাল থেকে ভাগীরথী চর বিষ্ণুপুর গ্রামকে একটু একটু করে গিলতে শুরু করে। একে একে গ্রামের দুর্গা দালান, কালী মন্দির, প্রাইমারী স্কুল, ক্লাব ঘর, খেলার মাঠ সহ জমি, বাপ ঠাকুরদার বসত ভিটে সবই চোখের সামনে নদীগর্ভে ভাঙনের জেরে বিলীন হতে দেখেছেন গ্রামের বাসিন্দারা। বর্তমানে গ্রামের বেশিরভাগ ভূখণ্ডই নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। চর বিষ্ণুপুর গ্রামটি পূর্ব বর্ধমান জেলার হলেও নদীয়া জেলার মূল ভূ-খণ্ড এর সঙ্গেও রয়েছে। এক পাড়ে কিছু অংশ ও অপর পাড়ে গ্রামের বাকি অংশ রয়েছে। এর আগে চর সাহাপুর, কালিকাপুর মৌজাতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা খরচ করে ভাঙন রোধে কাজ করা হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে কাজ দায়সারা ভাবেই করেছে সেচদপ্তর৷ কালিকাপুর, চর বিষ্ণুপুরে যেখানে কাজ হওয়ার কথা ছিল৷ সেখানে কাজ না করে অন্যজায়গায় উপরে কয়েকটি বালির বস্তা দিয়ে কাজ করেছে। চর বিষ্ণুপুরে কাজ না হলে আগামী দিনে গ্রামটার আর কোনো চিহ্ন থাকবে না।
চর বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা নগেন মণ্ডল, অসিত সরকার বলেন, চর বিষ্ণুপুর গ্রামে যেভাবে ভাঙন হচ্ছে তাতে ভাগীরথীতে জল বাড়লেই পুরো গ্রাম ভেসে যাবে। আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। চর বিষ্ণুপুরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে ভাগীরথী। বাসিন্দাদের ভাগ্য নির্ধারন হবে নদীর জলেই। বাসিন্দারা চাইছেন দ্রুত নদীর পাড় মেরামত করা হোক। কাটোয়ার বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, আমি নিজে অগ্রদ্বীপের বাসিন্দা। ছোটো থেকেই ভাঙন, বন্যা এসবের মর্ম বুঝি। বিধানসভাতে প্রসঙ্গ তুলেছি। আশা করি এবার ভাঙন রোধে পুরো নদীর পাড় বাঁধানো হবে।