


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে প্রায় দেড়শ বছর পর বাঘ ফিরতে চলেছে। শহরের উপকণ্ঠে ধবনি বিটের জঙ্গলে ১৬০ একর জায়গাজুড়ে টাইগার সাফারি গড়ে তোলা হবে। প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও টাইগার সাফারির জন্য জঙ্গল পরিদর্শনে করেন। জুলজিক্যাল পার্কটি ঘুরে দেখেন। জেলাশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন।
ঝাড়গ্রাম দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পর্যটনস্থল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন প্রসারে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বলা হয়েছিল। বনদপ্তরের আধিকারিকরা দিন কয়েক আগেই জঙ্গল পরিদর্শন করেন। বনমন্ত্রী হওয়ার পর জেলায় প্রথম এলেন মনোজ ওঁরাও। জেলার প্রশাসনিক মহলে সকাল থেকে ছিল চরম তৎপরতা। মন্ত্রী এদিন প্রথমে সার্কিট অফিস, বিজেপির জেলা কার্যালয় হয়ে জুলজিক্যাল পার্কে আসেন। সঙ্গে ছিলেন নয়াগ্ৰামের বিধায়ক তথা মন্ত্রী অমিয় কিস্কু, বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, প্রণত টুডু, ঝাড়গ্রাম, খড়গপুর, মেদিনীপুর ও রূপনারায়ণ বন বিভাগের আধিকারিকরা। মন্ত্রী পার্কের ভেটেরনারি বিভাগ ঘুরে দেখেন। সেখান থেকে জুলজিক্যাল পার্কের উত্তর প্রান্তের টাইগার সাফারি গড়ে তোলার জঙ্গল এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পার্কের ভেটেরনারি হাসপাতালে রাখা ম্যাকাও পাখির দু’টি ছানা দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বনবিভাগ ও চিড়িয়াখানার কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন। পার্ক পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বনমন্ত্রী এদিন বলেন, রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেটে রাজ্যের পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেইমতো ডুয়ার্স ও ঝাড়গ্রামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী টাইগার সাফারি করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিছু দিনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ফেন্সিং, পাঁচিল ছাড়াও ক্যাফেটেরিয়া গড়ে তোলা হবে। চারটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে আসা হবে। সেই সঙ্গে বলেন, টাইগার সাফারি মানেই দু’-চারটে বাঘ এনে ছেড়ে দিলাম, তা নয়। টাইগার সাফারিকে কেন্দ্র করে পর্যটনে আমূল বদল আসবে। দেড় থেকে দু' বছরের মধ্যে টাইগার সাফারি চালু হয়ে যাবে। হাতি মানুষের সংঘাত, বনভূমির জমি দখল, বনদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি দাওয়ার বিষয়গুলির সমাধান করা হবে বলেও এদিন জানান। আঞ্চলিক গবেষক মধুপ দে বলেন, প্রায় দেড়শ বছর আগে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে বাঘের অবাধ বিচরণ ছিল। জেলায় বাঘঝাঁপা, বাঘঘরি, বাঘাকুলির মতো গ্ৰামের নাম তার প্রমাণ দেয়। ব্রিটিশ নথিতে উল্লেখ রয়েছে এখানে ১৮৬৯ সালে ৯টি বাঘ, ৮টি চিতাবাঘ, ১৫টি ভাল্লুক ও ২টি হায়না মারার জন্য ১৬ পাউন্ড পুরস্কার মূল্য হিসেবে ব্যয় হয়েছিল। পরবর্তীতে বাঘের আর দেখা পাওয়া যায়নি। বছর খানেক আগে অবশ্য ওড়িশা থেকে বাঘিনী জিনাত বেলপাহাড়ীর জঙ্গলের ঢুকে পড়েছিল। নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হলেও ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে আবার বাঘের ফেরা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।