


নয়াদিল্লি: প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা চাঁদা। সেটাও বাংলা সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে! পুরোটাই ঢুকেছে বিজেপির ঝুলিতে। কারা দিল? কেন দিল? এই প্রশ্ন এখন আচমকাই উঠতে শুরু করেছে। তুলছে বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনে পেশ হওয়া এক্সপেনডিচার স্টেটমেন্ট থেকে জানা যাচ্ছে, পাঁচ রাজ্যে ভোটের সময় বিজেপির শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে ১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকার অনুদান এসেছে। আর কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ইউনিটগুলি মিলিয়ে চাঁদা পেয়েছে ২০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ হাত শিবিরের প্রাপ্ত চাঁদার তুলনায় সাত গুণের বেশি অর্থ এসেছে পদ্ম পার্টির ঝুলিতে। এই পুরো টাকাই এসেছে ১৫ মার্চের পর। শুধু তাই নয়, ভোট শুরুর আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের হাতে যা অর্থ ছিল, বিশাল খরচ সত্ত্বেও ভোটের পর তার পরিমাণ আরও বেড়েছে। অর্থাৎ ভোটে খরচ যা হয়েছে, তার তুলনায় অনুদান এসেছে অনেক বেশি।
নির্বাচন কমিশনে পেশ হওয়া কনসলিডেটেড এক্সপেনডিচার রিপোর্টের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ৬ মে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরিতে ভোটপর্ব চলাকালীন কংগ্রেস সব মিলিয়ে ২০৭.১৭ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। ভোট চলাকালীন তাদের খরচ হয়েছে ২৪৮.৫৫ কোটি টাকা। আর ওই একই সময়ে বিজেপির শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে চাঁদা এসেছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (১ হাজার ৪৭২.৮ কোটি)। বিজেপির ব্যয়ের হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, তারা অসম, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে প্রায় ১৫৯.৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩০.৪ কোটি টাকা তারকা প্রচারকদের যাতায়াত সহ দলের সাধারণ প্রচারে এবং বাকিটা প্রার্থী ও আনুষঙ্গিক খরচে। ৯৬.২৭ কোটি টাকা খরচ করেছে অসমের ভোটপ্রচারে। নজর করার মতো বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরল নির্বাচনের ব্যয়ের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশই করা হয়নি। সেক্ষেত্রে বিজেপির মোট প্রাপ্তির পরিমাণ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
একদিকে খোদ বিজেপির অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে তাদের বি টিম-সি টিম বলে ‘অভিযুক্ত’ গোত্রহীন দলগুলিরও ফুলেফেঁপে ওঠা। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, এর শিকড়টা কোথায়? কংগ্রেসের সাফ দাবি, পিঠ এবং পেট বাঁচাতে শাসকের প্রতি বহু ব্যক্তি বা সংস্থার আনুগত্য একটু বেশিই হয়। কিন্তু বিজেপির ক্ষেত্রে অঙ্কটা কোনো বাঁধ মানছে না। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা। আর এখন তো দেখা যাচ্ছে, খেতে খেতে বিজেপির পেট ফুলে যাচ্ছে। এই লুট ধরবে কে? কেন্দ্রে বিজেপির সরকার সরলেই সব ফাঁস হবে।’ মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘টাকা থাকাটা খারাপ নয়। কিন্তু হঠাৎ করে হাজার হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসছে? কোন স্বার্থে? কোন খাতে খরচ হচ্ছে? ইডি-সিবিআই তো ওদের পেটোয়া সংস্থা। ওদের দিয়ে হবে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে।’ সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ বলেন, ‘রাজনীতিতে বিভিন্ন দল নানা সময়ে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল খুলে যে দুর্নীতি করা যায়, সেটা শিখিয়েছে বিজেপি। ইলেকটোরাল বন্ড থেকে শুরু করে আরও কত কী! আমরা হঠাত্ দেখেছিলাম, কেউ নাম জানে না, এমন ৬টা দল, যাদের ঠিকানা গুজরাত... ইলেক্টোরাল বন্ডে বিপুল টাকা পেল। কাজেই বিজেপি নিজেই আস্ত দুর্নীতি। ২০২৯ সালের পর এই সব দুর্নীতির হিসাব হবে।’