


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শনি ও রবিবার দুদিনের ব্রিকস সম্মেলন হতে চলেছে নয়াদিল্লিতে। যোগ দিচ্ছেন পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক। মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হতে চলেছে বৈঠক। সেই মহা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক মহল। কারণ, এই বৈঠকের অর্থ আমেরিকার প্রতিস্পর্ধী একটি পাওয়ার ব্লক তৈরি হওয়া। যে বার্তা এই তিন দেশ আগেও দিয়েছে। ওই হাই ভোল্টেজ বৈঠকে এবারও অন্যতম আলোচ্য ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য। আগামীদিনে সেই চেষ্টাই করবে এই দেশগুলি। ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় নতুন শক্তিঅক্ষের বার্তা আরও জোরালো হতে চলেছে।
জি টুয়েন্টি, জি এইট, আসিয়ান, সার্ক, বিমস্টেক, কোয়াড ইত্যাদি অসংখ্য রাষ্ট্রগোষ্ঠী রয়েছে। কিন্তু বেছে বেছে ব্রিকস গোষ্ঠী নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগ, রোষ এবং সন্দেহ সবথেকে বেশি। কারণ কী? ব্রাজিল,রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকসের রাষ্ট্রনায়কদের প্রত্যেকেই একটি বিষয়ে সমমনস্ক। ডলারের শক্তিক্ষয় করা। চীন অথবা ব্রাজিল। ভারত কিংবা রাশিয়া। সকলেই সহমত যে, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যিক আদানপ্রদান হোক। চীন, রাশিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে এই লক্ষ্যে। ভারতও বহু দেশকে জানিয়েছে যে, বাণিজ্যিক আদানপ্রদান হোক টাকায়। আর এখানেই আশঙ্কায় আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প বারংবার ব্রিকসের সমালোচনা করেন। কারণ, ব্রিকস গোষ্ঠী নিজস্ব মুদ্রা প্রচলন নিয়েও আলোচনা করছে। অর্থাৎ ব্রিকস কারেন্সি। সেক্ষেত্রে একসঙ্গে বহু দেশ যদি ডলারের পরিবর্তে তাবৎ বাণিজ্যিক লেনদেন করে অন্য মুদ্রায়, তাহলে দুর্বল হবে ডলার। প্রসঙ্গত, সাদ্দাম হোসেন থেকে আয়াতোল্লা খামেনেই, সকলেই ডলারের মাধ্যমে পেট্রপণ্যের বিরোধী ছিলেন। তার সাজাও তাঁরা পেয়েছেন। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট একই কারণে গদিচ্যুত ও বন্দি। সুতরাং যেখানেই ডলারকে দুর্বল করার প্রয়াস হয়েছে, আমেরিকা প্রত্যাঘাত করেছে।
শনিবারের বৈঠকের প্রাক্কালে আগামীকালই পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে চলেছে। রাশিয়ার সঙ্গে ক্রয়বিক্রয়ের সম্পর্ক কমাতে বারংবার আমেরিকা চাপ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পুতিন ও মোদির বৈঠকে আরও বেশি এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সুখোই ৫৭ ফাইটার জেট এবং ব্রহ্মস মিসাইল সিস্টেমের ক্রয় ও উন্নীতকরণ নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাবে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতার অংশিদারিত্ব। অর্থাৎ রাশিয়া স্পষ্ট করে দিল যে, আমেরিকার হুঁশিয়ারি দিল্লি-মস্কোর স্বাভাবিক মিত্রতায় কোনও প্রভাব ফেলছে না।