


নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর: উন্নত দেশের কার্বন নিঃসরণ ভারতের তুলনায় ৬ গুন বেশি, জলবায়ু বৈষম্য নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, উন্নত দেশগুলির মাথা পিছু কার্বন নিঃসরণ উন্নয়নশীল দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রায়শই উন্নয়নশীল দেশগুলিকেই কাঠগড়ায় তোলা হয়, যা ঠিক নয়। যেখানে আসল সত্যিটা হলো ভারতে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বিশ্ব গড়ের অর্ধেকেরও কম। ভারত এই তথ্য জোরালোভাবে প্রতিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে।’ একইভাবে তিনি এই তথ্য প্রত্যেক ভারতবাসীকেও তুলে ধরতে বলেন।
বিগত ১২ বছরে পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত সেক্টরে অসাধারণ কাজ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মোদি বলেন, জি-২০ রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একমাত্র ভারতই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তির যাবতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। এটাই ভারতের শক্তি।
সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতের প্রথম এবং বিশ্বের দীর্ঘতম হাইড্রোজেন ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, ২০১৪ সালের আগে যেখানে বছরে ৩,০০০ ই-ভেহিক্যাল বিক্রি হতো, সেখানে গত বছরেই প্রায় ২৫ লক্ষ ই-ভেহিক্যাল বিক্রি হয়েছে।’
এছাড়াও পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার তিনি অভিযোগ করেন, যাঁরা পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হন, তাঁরাই পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো আইনি জটিলতায় আটকে দিতে আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে দেশে বায়ু শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমানে দ্রুত গতিতে পরমাণু শক্তি সম্প্রসারণের কাজ চলছে।