


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: তৃণমূল আমলে নৈহাটিতে তৈরি হয়েছে বড় বাস টার্মিনাস। কিন্তু সেভাবে ব্যবহার হয়নি। ইট, বালি, পাথর রাখার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই টার্মিনাস। বিজেপি সরকার আসার পর সেই বাস টার্মিনাস থেকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নৈহাটি থেকে জোকা পর্যন্ত ১০টি এসি বাস চালু হয়েছে। এবার নৈহাটি থেকে শিলিগুড়ি, দীঘা এবং পুরী বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। খুব শীঘ্রই ওই রুটে বাসগুলি চলাচল করবে। সেই সঙ্গে একটি অত্যাধুনিক যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হবে। সেখানে থাকবে শৌচালয় এবং বসার ব্যবস্থা।
পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং জানলেন, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান নৈহাটি। তার রচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছর উদযাপন চলছে। সেই উদ্দেশ্যেই নৈহাটিকে দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসাবে তুলে ধরতে এবং পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দূর-দূরান্তের মানুষ নৈহাটি শহরে এসে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ি এবং সংগ্রহশালা দেখতে পারবেন। নতুন প্রজন্মের কাছে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে যাতে আরো তুলে ধরা যায়, সেই উদ্দেশ্যেই উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, দক্ষিণবঙ্গের দীঘা এবং ওড়িশার পুরীতেও এখান থেকে বাস চালানো হবে। এর জন্য পারমিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভাটপাড়া, কাঁচরাপাড়ার মানুষও এখান থেকে বাস ধরার সুযোগ পাবেন।
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ওই বাসস্ট্যান্ডের পাশেই গড়ে উঠেছে নতুন নৈহাটি থানা। পাশের নৈহাটি হাসপাতালও নতুনভাবে সেজে উঠছে। বাস স্ট্যান্ড থেকে স্টেশন খুব দূরে নয়। এছাড়াও নৈহাটির বড়মার মন্দিরের জনপ্রিয়তাও দিনদিন বাড়ছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বড়মার কাছে এসে পুজো দিচ্ছেন। আর এই সমস্ত বাস সার্ভিস চালু হলে বড়মার মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীদেরও খুব সুবিধা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।