


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রবিবারও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলল খাদ্যে ভেজাল রোধে অভিযান। তারকেশ্বর থেকে বসিরহাট— সর্বত্র অভিযান চালালেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। এদিন তারকেশ্বরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল একটি চানাচুর কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এদিন তারকেশ্বরের মুক্তারপুরে চানাচুর কারখানার ভিতরে তাঁরা প্রবেশ করতেই মালিক তর্ক জুড়ে দেন। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেন বলে অভিযোগ। এতে উত্তেজনা বাড়ে, ক্ষুব্ধ হন আধিকারিকরা। আধিকারিকদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে তারকেশ্বর থানার পুলিশ ও স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পান। কারখানার মালিক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিধায়ক বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারকেশ্বর মন্দির সংলগ্ন একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানে এদিন বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়। একই নোটিস দেওয়া হয় তারকেশ্বর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি রেস্তরাঁতেও। হুগলি জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না বলেন, তারকেশ্বরে দু’টি দোকান, একটি অয়েল মিল সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি চানাচুর কারখানায় নমুনা সংগ্রহ করে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত নথি দেখাতে না পারলে প্রতিষ্ঠানগুলি সিল করে দেওয়া হবে।
এদিকে, রবিবার টাকি পর্যটন কেন্দ্রে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর অভিযান চালায়। ইছামতীর পাড়ে টাকি পুরসভা পরিচালিত একটি অতিথিশালায় নানা অনিয়ম দেখার পর রান্নাঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুরসভার অতিথিশালা হলেও সেটি পরিচালনার দায়িত্ব টেন্ডারের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, তাদের ফুড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স সহ মোট ন’টি প্রয়োজনীয় নথি বা অনুমতিপত্র ছিল না। তাই অতিথিশালার রান্নাঘর সিল করে দেন আধিকারিকরা। এদিন টাকির একটি বেসরকারি রেস্তরাঁয় মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ও সঠিক কাগজপত্র না থাকায় পাঁচদিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি বিলাসবহুল হোটেলকেও নোটিস ধরানো হয়েছে। অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন টাকি পুরসভার আধিকারিক, হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বসিরহাট খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের ফুড আধিকারিক অপরাজিতা মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আমরা বসিরহাট জুড়ে অভিযান চালাচ্ছি। টাকিতে বহু মানুষ ঘুরতে আসেন। তাই এখানকার খাবারের গুণমান ঠিক কি না, স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা দেখা হয়েছে। ত্রুটি থাকলে নোটিস ধরানো হয়েছে। অন্যদিকে, রবিবার বনগাঁর গাঁড়াপোতা বাজারে যৌথভাবে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও পুলিশ। বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও বিরিয়ানির দোকানে যান আধিকারিকরা। মিষ্টির দোকানে অপরিচ্ছন্নতা, বাসি সিঙ্গারা, লুচি ফ্রিজের মধ্যে রাখা নিয়ে দোকানদারদের সতর্ক করেন। বিরিয়ানির দোকানে রং মাখানো মাংস, আলু এবং মিষ্টির দোকানে রং মাখা বাসি মিষ্টি ডাস্টবিনে ফেলা হয়। এদিন বনগাঁর নিউ মার্কেটে মাছ বাজারে পুরসভার সঙ্গে যৌথ অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।
অন্যদিকে, ভাঙড়ের ঘটকপুকুর বাজারেও বেশ কয়েকটি বিরিয়ানির দোকানে হানা দিয়ে ধরা পড়ল অনিয়ম। কোথাও ফুড লাইসেন্স ছাড়া চলছে ব্যবসা, কোথাও খাবারে রং ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি দোকানের রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা। প্রতিটি দোকানকে সতর্ক করা হয়েছে। খাবারের গুণমান যাচাই করতে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। তা পরীক্ষার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২০টি দোকানে অভিযান চালানো হয়। তার মধ্যে ১৫টিকে নোটিস ধরানো হয়েছে। ফেলে দেওয়া হয়েছে প্রচুর পরিমাণ পচা মাংস, মিষ্টি, আলু প্রভৃতি খাদ্যসামগ্রী।