


আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
কথায় বলে বন্যরা বনে সুন্দর। কিন্তু এমনও জায়গা এই পৃথিবীতেই রয়েছে, যেখানে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীদের দিব্যি সুন্দর সহাবস্থান দেখতে পাবে। সে বড়ই অদ্ভুত এক দ্বীপ। সেখানে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি! সত্যি বলছি, এমন জায়গাও আমাদের পৃথিবীতে রয়েছে বইকি। জাপানের পূর্ব উপকূলের কাছে আজিসিমা দ্বীপ। এই দ্বীপটি রেশম সুতো উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। আর সেই সুবাদেই নাকি এখানে প্রথম বিড়াল পালন শুরু হয়। ক্রমশ সেই পশুপালন যে এমন বিশালাকার ধারণ করবে তা হয়তো দ্বীপের বাসিন্দারা বুঝতে পারেননি। কিন্তু আদতে তা-ই হল। মানুষের সংখ্যা ছাপিয়ে বহুলাংশে বেড়ে গেল ক্যাট পপুলেশন। এখন পরিসংখ্যান যেমনটা দাঁড়িয়েছে তাতে আজিসিমা দ্বীপে মানুষের জনসংখ্যা ২৫ শতাংশ আর বাকি ৭৫ শতাংশই বিড়াল! আজব কাণ্ড বটে!
শুনেই তাজ্জব হয়ে যাচ্ছ! তাই তো?
কিন্তু এই দ্বীপে বিড়াল পালন শুরু হল কেন? রেশম সুতো বোনার কারবারের জন্য বিখ্যাত এই দ্বীপ। তাই গুটিপোকার চাষ হয় এখানে। গুটিপোকা খেতে ইঁদুর আসে। আর সেই ইঁদুর তাড়ানোর জন্যই প্রথম বিড়াল পুষতে শুরু করেন এই দ্বীপের লোকজন। সেই থেকেই বিড়াল অতি আদরে লালিত হতে থাকে এখানে। কিন্তু ক্রমশ বংশ বৃদ্ধি করে যে তারা মানুষকেও ছাড়িয়ে যাবে, তা বুঝি তখনও দ্বীপবাসীরা বুঝে ওঠেনি। তবে বিড়াল পোষার আরও একটা কারণ ছিল। যেকোনও দ্বীপের মতোই এখানেও মৎস্য ব্যবসা জীবনধারণের অন্যতম উপায়। আর এখানকার জেলেরা বিশ্বাস করে বিড়াল অতি পবিত্র প্রাণী। ফলে তাদের উপর কোনওরকম অত্যাচার তারা সহ্য করতে পারে না। বরং ভালোবেসে সেবা যত্নে ভরিয়ে রাখে তারা বিড়ালদের। আর স্বভাবতই বিড়াল আদুরে প্রাণী, তাই এমন খাতির পেয়ে তারাও অবলীলায় নিজেদের বংশবৃদ্ধি করেছে।
এই দ্বীপে পৌঁছতে হলে ট্রেন বা বাসে করে ইশিনোমাকি ফেরিঘাটে পৌঁছে সেখান থেকে ফেরি নেওয়া যায়। এই দ্বীপের আবার দুটো বন্দর। সরাসরি বিড়ালের রাজ্যে পৌঁছতে চাইলে নিতোদা পোর্টে নামতে হবে। সেখানে বিড়াল পায়ে পায়ে ঘুরবে তোমাদের। বাঘের মাসি সাধারণভাবে যতই হিংস্র হোক না কেন, এই দ্বীপে তাদের আচরণ কিন্তু বেশ সভ্য-ভদ্র। মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ঘুরতে দেখা যায় তাদের। এমনকী ছবি তুলতেও কোনও আপত্তি করে না। বিরক্ত হয় না, বরং পর্যটকদের পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়ায়। এই ধরনের আচরণ সাধারণত কুকুরের কাছেই প্রত্যাশিত। বিড়ালরা এমন আচরণের ধারও ধারে না। নিজের মতো থাকতে ভালোবাসে। কিন্তু এই ক্যাট আইল্যান্ডের বিড়ালরা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। মানুষের সঙ্গে দিব্যি বন্ধুত্ব পাতিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তাদের।
এমন দ্বীপে রাত কাটাতে চাইলে তাও সম্ভব। পর্যটকদের জন্য বিড়ালাকৃতির রেস্ট হাউস রয়েছে এখানে। তবে এগুলো সংখ্যায় খুবই কম। তাই আগে থাকতে বুকিং না থাকলে এই জায়গায় থাকা সম্ভব নয়। যাই হোক, থাকা না হলেও ডে ট্রিপে ঘুরে দেখে আসাই যায় এই দ্বীপ। সেক্ষেত্রে ফেরির সময় বিষয়ে বিশেষভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। সারাদিনের শেষ ফেরিটা দ্বীপ থেকে কখন ছেড়ে যাবে এই সময় খেয়াল রেখে বন্দরে পৌঁছে যেতে হবে। ব্যস, সতর্কতা বলতে এটুকুই। বিড়ালপ্রেমী হলে কিন্তু দারুণ উপভোগ্য এই দ্বীপের জন্য জাপান সফরে একটা দিন অবশ্যই বরাদ্দ রেখ।