


সংবাদদাতা, কাটোয়া : রাতের আঁধারে চুপিসারে হাত জাল দিয়ে অথবা ছিপ নিয়ে ভর দুপুরে কেউ পুকুর পাড়ে বসে মাছ ধরে নিয়ে পালাচ্ছে কিনা এবার তা ধরা পড়বে। পুকুরের নজরদারিতে এবার সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন কেতুগ্রামের বিষ্টুপুর গ্রামের মৎস্যচাষি। মাঝপুকুরে তিনি বসিয়েছেন এই সিসি ক্যামেরা। আর এসব কাণ্ডকারখানা দেখে হতবাক হচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা।
কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্টুপুর গ্রামে রয়েছে একটি পুকুর। সেখানে লিজ চুক্তিতে দু’ বছর ধরে মাছ চাষ করেন পাশের রতনপুর গ্রামের মৎস্যচাষি ননী হালদার। আগে তিনি চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাননি। কয়েক হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ধারণা কেউ মাছ চুরি করে নিয়ে পালাচ্ছে। ধরা যাচ্ছে না। তাই তিনি ইউটিউব দেখে প্রযুক্তির ব্যবহার জানতে পারেন। ভাবনা যেমন তেমনি কাজ। পুকুরের মাঝে বাঁশ পুঁতে তার উপরে সাড়ে ছ’ হাজার টাকা খরচ করে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছেন। আর সেখানে সোলার প্যানেল লাগিয়ে দিয়েছেন। ব্যস প্রত্যন্ত গ্রামে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন তিনি দিব্যি রয়েছেন। কারণ প্রতিটা মুহুর্তে তিনি মোবাইলেই লাইভ দেখতে পান। পুকুরে কারা আসছেন। কি করছেন। কেউ বাসন ধুলেও তা তিনি অন্য গ্রামে বসে দেখতে পাচ্ছেন।
ননী হালদার বলেন, আমি বছরে ১৬ হাজার টাকার লিজ চুক্তি নিয়ে মাছ চাষ করছি। পঞ্চান্ন হাজার টাকা খরচ করেছি চাষে। তবুও আগের বছর লাভের মুখ দেখতে পাইনি। পুকুরে গিয়ে দেখছি মাছ রয়েছে। অথচ যখন ধরতে যাই, তখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ মাছ চুরি করছে কিনা তা দেখার জন্যই তাই সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি।
আগে গ্রামীন পুকুরে লিজ চুক্তিতে মাছ চাষ করার জন্য চাষিরা পাহারাদার রাখতেন। পাহারদারদের বেতন দিতে মাসে মোটা টাকা খরচ হত। তাই এখন মৎস্যচাষিরা অনেকেই প্রযুক্তির সাহায্যে নিচ্ছেন। জলের মধ্যেই সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিচ্ছেন। এতে তাঁরা বাইরে থেকেও পুকুর লাইভ দেখতে পাচ্ছেন। কেউ মাছ চুরি করতে এলে চাষির কাছে নোটিফিকেশন চলে যাচ্ছে। তাতে তাঁরা সজাগ হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কেতুগ্রামের বিষ্টুপুর গ্রামের বাসিন্দারা হতবাক হচ্ছেন পুকুরে সিসি ক্যামেরা দেখে। তাঁরা বলছেন, আমাদেরও পুকুরে নামতে ভয় লাগছে। কারণ তা সব সিসি ক্যামেরায় ছবি উঠে যাচ্ছে। পরে যদি আমাদেরই মাছ চোর বলে সন্দেহ করে। তাই আমরাও এড়িয়ে যাচ্ছি ওই পুকুরটিকে।