


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের বিদেশিনী হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ন’জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ এখনও কাটেনি। সেই শোকের আবহেই আগামী শনিবার বীরভূম জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সফর, অন্যদিকে আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যায় লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর বিপুল ভিড় এই জোড়া চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দুর্ঘটনা রোধে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে মঙ্গলবার রামপুরহাটের রক্তকরবী পুরমঞ্চে প্রস্তুতি বৈঠক সারলেন প্রশাসনিক কর্তারা।
প্রশাসন সূত্রের খবর, শনিবার সকালে চিলারমাঠে হেলিকপ্টারে নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১১টা নাগাদ মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর, রক্তকরবী পুরমঞ্চেই তিনি একটি প্রশাসনিক রিভিউ বৈঠকে যোগ দেবেন। সেখানে সমস্ত দপ্তরের কর্তারা থাকবেন। তাঁরা রিপোর্ট তৈরিতে ব্যস্ত। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, প্রত্যেকটি দপ্তরকে নিজেদের রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী যে কোনো প্রশ্ন করতে পারেন তারজন্য প্রস্তুতি সেরে রাখছেন কর্তারা। ভূমিদপ্তরের এক কর্তা বলেন, রাজস্ব আদায়ে সরকারের কড়া নজর রয়েছে বীরভূমের পাথরে। লিকেজ আটকে ১০০কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। তবে টুলু মণ্ডলের ঘটনা এবং বর্ষার কারণে রাজস্ব আদায়ে আগের তুলনায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাই আয়ের রিপোর্ট তৈরি রাখা হচ্ছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে এদিন সকালে মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেন আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী কোন পথে ঢুকবেন, কোথায় বসবেন, মন্দিরের পক্ষ থেকে কী দেওয়া হবে এবং সেবাইতদের কারা থাকবেন তার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও মন্দির কমিটির কাছে চাওয়া হয়েছে। এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে সমান গুরুত্ব পেয়েছে কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি। প্রতি বছর এই তিথিতে তারাপীঠের মহাশ্মশানে সাধনার জন্য সাধুসন্তদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। অনুমান, এবারের অমাবস্যায় প্রায় ছ’লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ভিড় হতে পারে। বিপুল এই জনসমাগম সামলাতে রামপুরহাটের মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোরের উপস্থিতিতে এদিনের বৈঠকে ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, টিআরডিএর সদস্য তথা মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় সহ পিএইচই, পিডব্লুডি, দমকল, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহণ ও হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা।
বৈঠকে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে অমাবস্যার আগেই প্রতিটি হোটেলকে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, স্মোক এবং ফায়ার অ্যালার্ম লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, মন্দির ও শ্মশান চত্বর পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হবে। জরুরি প্রয়োজনে জীবিতকুণ্ড ও পূর্বসাগর পুকুর থেকে পাম্পের সাহায্যে জল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। পুণ্যার্থীরা যাতে দ্বারকা নদে স্নান করতে নেমে বিপদে না পড়েন তাই ঘাটে থাকবেন প্রশিক্ষিত ডুবুরি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের পাশাপাশি পিএইচইর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পানীয় জলের পাউচ বিতরণ করা হবে। ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার করা হবে। অমাবস্যার দু’দিন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে।
মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মন্দিরে আগে থেকেই ফায়ার সিস্টেম রয়েছে, তবে তা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতির চূড়ান্ত করতে আগামী দিনে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে।