


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ একুশে জুলাই শহীদ দিবস। গতবছর পর্যন্ত এই দিন মানেই ছিল জমজমাট জনসভা। এতদিন এই শহীদ স্মরণ ভিক্টোরিয়া হাউস এর সামনে হয়ে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বে। কিন্তু এবছর সেই ছবি একেবারেই উধাও। তার কারণ, এবার একাধিক ভাগে ভাগ হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভাগ হয়েছে শহীদ দিবসের কর্মসূচীও। এবার চার ভাগে ভাগ হয়ে গেছে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান।
আদালতের নির্দেশে ভিক্টোরিয়া হাউস এর সামনের বদলে মমতা ব্যানার্জি পন্থি তৃণমূল কংগ্রেসকে এবার শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান করতে হচ্ছে বিড়লা প্লানেটরিয়াম সংলগ্ন রাস্তায়। তাও আবার কোর্টের নির্দেশে। এমনকি আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সারতে হবে এই সভা। আড়াই হাজারের মধ্যে রাখতে হবে জমায়েত। ফলে প্রতিবছর এই দিনে মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য শুনতে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসতেন সেখানে এই বছর মাত্র আড়াই হাজার মানুষের সামনে বক্তব্য রাখতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারা ঋতব্রত সন্দীপন সাহাদের তৃণমূলের। তারা শহীদ স্মরণ সারছেন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। মেয়ো রোডের এই শহীদ স্মরণ ধারে ভারে অনেকটাই এগিয়ে মমতাপন্থী তৃণমূলের সভার থেকে। তার মূল কারণ গত বছরের একুশে জুলাই-এর সভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে যেসব হেভিওয়েট নেতারা ছিলেন তাদের একটা বড় অংশই চলে এসেছেন ভেঙে যাওয়া তৃণমূলের এই অংশে। ফলে এবারের মেয়ো রোডের শহীদ মঞ্চে দেখা যাবে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের মতো তৃণমূলের বড় নামেদের।
পাশাপাশি এনসিপিআই তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের সংসদরা আজকের শহীদ দিবস পালন করবেন দিল্লির রাজঘাটে।
অন্যদিকে গত কয়েক বছর ধরে মহাজতি সদনে শহীদ স্মরণ করত কংগ্রেস। এবার তারাও ময়দানে। শহীদ মিনারে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস হয়ে বিক্ষোভ করতে গিয়ে মৃত শহীদদের স্মরণ করবে কংগ্রেস।
অর্থাৎ গত বছর পর্যন্ত যে শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড় হতো ধর্মতলায়, সেই ভিড় এবার ভাগ হয়ে যাবে চার ভাগে। এখন দেখার কর্মী সমর্থকদের আনুগত্য তৃণমূলের কোন পক্ষের প্রতি।