


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরের উত্তার জলরাশি পেরিয়ে অবশেষে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় 'মুরাশু'। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত প্রায় দু’ঘণ্টার ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড়টি। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। তবে স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করবে মুরাসু, এমনটাই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়া দপ্তরের শেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৩টে ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ঝড়টির কেন্দ্র অবস্থান করছিল দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের উপর, ওঙ্গোলের কাছাকাছি। সেই সময় বাপটলা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কাভালি থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ১২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং নেল্লোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তরে ছিল ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান। গত ছয় ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়েছে 'মুরাশু'। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, স্থলভাগের উপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রমশ শক্তি হারাবে ঘূর্ণিঝড়টি। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তকমা হারিয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে মুরাশু। তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর রাতের মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন উত্তর তামিলনাড়ু উপকূলের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।