


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: শ্রাবণী মেলায় প্রকৃত হিরো হলেন সাফাই কর্মীরা। তারকেশ্বর পুরসভা ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সাফাই কর্মীদের অক্লান্ত চেষ্টায় এবারের শ্রাবণী মেলা সকলের চোখে পরিচ্ছন্নতায় পেয়েছে একশোয় একশো। মেলা শুরুর আগেই তারকেশ্বরে এসে পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে পুরকর্মীদের বার্তা দিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ৫০০ মেট্রিক টনেরও বেশি বর্জ্য পদার্থ সরিয়ে পুণ্যার্থীদের সুন্দর পরিবেশ উপহার দিয়েছেন সাফাই কর্মীরা।
দিন শেষে তাঁদের প্রাপ্য মাত্র ২০২ টাকা। তাও হাসিমুখে তারকেশ্বরে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ফেলে যাওয়া বর্জ্য ও প্লাস্টিকের ঘট সরিয়েছেন তাঁরা। দু’টি শিফটে কাজ করেছেন। শ্রাবণ মাস শেষ হলেও এই মেলা চলবে ২৮ আগস্ট, রাখি পূর্ণিমার দিন পর্যন্ত। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১৮০ জন সাফাইকর্মী দিনরাত কাজ করে পরিচ্ছন্ন রেখেছেন শহরকে। তারকেশ্বর শহরকে দশটি জোনে ভাগ করা হয়েছিল। ১৪ জন সুপারভাইজারের অধীনে দশজন করে কর্মী কাজ করেছেন। মন্দিরে দু’টি শিফটে কাজ করেছেন ৫০-৬০জন। এছাড়াও ছিল মন্দির কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সাফাই কর্মীরা। প্রতি রবিবার ও সোমবার পুণ্যার্থীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের ঘট সাফ করতেই নাজেহাল হতে হয়েছে তাঁদের। দুধপুকুরও পরিষ্কার করতে হয়েছে। এবার শ্রাবণী মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে প্রশংসা করেছেন পুণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রায় ৫০০ মেট্রিক টনেরও বেশি বর্জ্য পদার্থ বৈদ্যবাটি রিজিওনাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তারকেশ্বর পুরসভার স্যানেটারি ইনস্পেক্টর মোহনকিশোর চট্টোপাধ্যায় বলেন, শহরকে আরও স্বচ্ছ করে তুলতে গ্রিন তারকেশ্বর, ক্লিন তারকেশ্বর নামে একাধিক অভিযান চালানো হয়।
শ্রাবণী মেলায় এবার তীর্থযাত্রীদের সমাগম বাড়বে, তা অনুমান করেই আমরা সেই অনুযায়ী মাইক্রো প্ল্যান তৈরি করেছিলাম। পরিকল্পনা অনুসারে আমরা কাজ করার চেষ্টা করেছি। শহরের পাশাপাশি তারকেশ্বর গ্রামীণ এলাকাও পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। পুর প্রশাসনিক বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ তথা সাফাই বিভাগের প্রত্যেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও পরিশ্রমের ফলেই দ্রুত শহর পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নিজস্ব চিত্র