


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি খতিয়ে দেখবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।
বাঁকুড়ায় কয়েকজন পদ্ম বিধায়ক ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন বলে অভিযোগ। কেউ অনুগামীদের নিয়োগ করার জন্য সিমেন্ট কারখানার মালিককে হুমকি দিচ্ছেন। কেউ আবার ঠিকাদার, প্রমোটারদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন। কারও নিকটাত্মীয় আবার ট্রাক মালিক সংগঠনের কাছে ১০০টি গাড়ির পণ্য পরিবহণের বরাত নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। এক বিধায়ক আবার অল্পতেই ‘হাইপার’ হয়ে যান। তখন তাঁর হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিক থেকে দলের নেত্রী, কাউকে তিনি ছাড়েন না। সামান্য কারণেও তিনি তিলকে তাল করেন। ক্ষমতার দম্ভ তাঁকে গ্রাস করে ফেলেছে বলে বিজেপি নেতাকর্মীরাই ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা করেন। এক বিধায়ক আবার দলীয় প্ল্যাটফর্মের থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি সরব হন। দলেরই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে তাঁর ‘শব্দ বান’ সামাজ মাধ্যমকে তোলপাড় করে। তা নিয়েও বিজেপিকে বেজায় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিজেপি একমাস ব্যাপি প্রচার কর্মসূচির আয়োজন করছে। তারজন্য এদিন বাঁকুড়া শহরের কানকাটা এলাকার একটি লজে বিজেপির তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে ক্ষুদিরামবাবুর সঙ্গে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার, বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতানেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। ক্ষুদিরামবাবু প্রথমে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী কী করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন। কীভাবে গত কয়েকবছরে বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে দেশ এগিয়েছে তার বিবরণ তিনি দেন।
ভোটের আগে নিয়োগ নিয়ে দেওয়া ছ’মাসের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি এরাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার কেন বাস্তবায়িত করছে না? এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কলকাতায় চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে পড়েছে। পূর্বতন সরকারের ভুলের খেসারত তাদের দিতে হচ্ছে। আমাদের কাছে চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি ১০হাজার শূন্যপদ দ্রুত পূরণের কথা বলেছেন। আমরা যথাসময়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ করব।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এক সাধু এব্যাপারে তাঁর মতামত জানিয়েছেন। বিজেপি কারও খাওয়া-পরা নিয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। পুজোর সময় কে কী খাবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। এনিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন দাগি অপরাধীরাও আইনের উপর ভরসা রাখার বুলি আউরাচ্ছে। আসলে তারা ছাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় তাদের নেই। আমরা জাল জাতিগত শংসাপত্র ঝাড়াইবাছাইয়ের কাজ ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনছি।
এব্যাপারে আধিকারিকরা ভালো কাজ করছেন। কিছু জায়গায় তদন্ত চলছে। সেই সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।