


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে স্নাতকোত্তর মেডিকেল কাউন্সেলিংয়ে স্টেট কোটার আসনে ডোমিসাইল বি সংরক্ষণ তুলে দিল রাজ্য। শুধু তাই নয়, এমডি-এমএস-এ ভরতির ক্ষেত্রে ডোমিসাইল এ১, এ২ এবং বি—অর্থাৎ তিন ধরনের ডোমিসাইলই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। আনুমানিক আড়াই হাজার স্নাতকোত্তর স্টেট কোটার আসনে এই নিয়ম বলবৎ হবে।
দপ্তর সূত্রে খবর, এ ১ ডোমিসাইলের ক্ষেত্রে যে রাজ্যের ডোমিসাইলের জন্য কোনো ছাত্র বা ছাত্রী আবেদন করছেন, শেষ ১০ বছর সেখানকার টানা বাসিন্দা হতে হবে। এ ২ অর্থাৎ শুধু শেষ ১০ বছর টানা বাসিন্দাই নয়, সেই রাজ্য থেকে সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করে পাশ করতে হবে অথবা পরীক্ষা দিতে হবে। আর ডোমিসাইল বি অর্থাৎ সেই ছাত্র বা ছাত্রী যেখানকার ডোমিসাইল বি-এর জন্য আবেদন করছেন, সেই রাজ্যে বাস না করলেও গত ১০ বছর সেখানে কর্মসূত্রে তাঁর বাবা বা মাকে টানা স্থায়ী ঠিকানায় বসবাস করতে হবে।
দপ্তরের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, স্টেট কোটার আসনে ভরতির ক্ষেত্রে ডোমিসাইলের বদলে এখন দুটি বিষয় দেখা হবে। প্রথমত, সেই ছাত্র বা ছাত্রী বাংলা থেকে এমবিবিএস করেছেন কি না। করার পর তিনি যদি অন্য রাজ্যে চলেও যান, তাতে সমস্যা নেই। দ্বিতীয়ত, তিনি যদি পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তরে চাকুরিরত থাকেন, তাতেও প্রাধান্য পাবেন কাউন্সেলিংয়ে।
রাজ্য দপ্তরের একাধিক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে এমবিবিএসের ভরতির কাউন্সেলিংয়েও ডোমিসাইল বি তুলে দিতে চাইছে তারা। দপ্তরের কর্তাদের মতে, এত বিতর্কিত সংরক্ষণ চালু রাখার মানেই হয় না। ফি-বছর এই ফর্ম পূরণ করে প্রায় ১০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বাংলার বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের স্টেট কোটার আসনে ভরতি হন। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে সুপ্রিয় কোর্টের নির্দেশও এসে পৌঁছেছে। সেখানে সর্বোচ্চ আদালত ডোমিসাইলের ভিত্তিতে ভরতির কাউন্সেলিংয়ে সুবিধা দিতে আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্তা বলেন, ‘মুখের উপর কিছু বলতে না পারলেও কাউন্সেলিংয়ের সময় ভালোই বোঝা যায়, বহু ডোমিসাইল বি ফর্মে গণ্ডগোল আছে। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সই থাকায় কিছু বলতে পারি না। এভাবে কাতারে কাতারে ডোমিসাইল বি পরীক্ষার্থী বাংলার সরকারি মেডিকেল কলেজে ঢুকে পড়ায় বঞ্চিত হন সৎ মেধাবী পরীক্ষার্থীরা। কাউন্সেলিং শেষ হতে না হতেই আদালতে আদালতে ওই সব ছাত্র বা ছাত্রীর ফর্মকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার বন্যা বয়ে যায়।’ স্বাস্থ্যকর্তারা জানান, এমবিবিএসে ডোমিসাইল বি থাকায় কী কী সমস্যা হচ্ছে, কিছুদিন আগেই তা এক জরুরি বৈঠকে জানানো হয় শীর্ষ মহলে। তখনই এ বছর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কাউন্সেলিংয়ে এসব ফর্ম তুলে দেওয়ার জন্য গ্রিন সিগন্যাল মেলে। এও বলা হয়, আগামী বছর এমবিবিএসের কাউন্সেলিং থেকেও এই ফর্ম বাদ দেওয়া হবে।