


সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: হ্যারিকেনের আলোয় প্রতিমায় রং করতে গিয়ে বদলে গিয়েছিল দেবীর গায়ের রং। অতসী বর্ণের দুর্গা হয়ে উঠেছিলেন অপরাজিতা ফুলের মতো নীলবর্ণে। তারপর থেকে নীলবর্ণা দুর্গার আরাধনাই হয়ে আসছে কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়ার চট্টোপাধ্যায় পরিবারে। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পুজোয় আজও অটুট রয়েছে পারিবারিক বিশ্বাস ও প্রাচীন রীতিনীতি। দশমীর দিন দেবীকে বিদায় জানানোর আগে ভোগে থাকে পান্তা ভাত, কচুর শাক, মটর ডালের বড়া ও গন্ধরাজ লেবু।
কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়ায় অবস্থিত চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজো পরিচিত আদি নীল দুর্গাবাড়ি নামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অবিভক্ত বাংলার বরিশাল জেলার বামরাইল গ্রামে চিন্তাহরণ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে পুজোর সূচনা হয়েছিল। দেশভাগের সময়, ১৯৪৭ সাল নাগাদ চট্টোপাধ্যায় পরিবার কৃষ্ণনগরে চলে আসে। পরে জীবনলাল চট্টোপাধ্যায় এখানেও দুর্গার আরাধনা শুরু করেন।
পরিবারের প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আগে দেবীর গায়ের রং ছিল অতসী বর্ণের। একবার সময়ের অভাবে এক বৃদ্ধ প্রতিমাশিল্পী রাতে হ্যারিকেনের আলোয় প্রতিমা রং করছিলেন। সারারাত কাজ করার পর ভোরের আলোয় দেখা যায়, দেবীর গায়ের রং হয়ে উঠেছে অপরাজিতা ফুলের মতো নীল। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় সকলেই অবাক হয়ে যান। তখন পরিবারের কর্তা চিন্তাহরণবাবু জানান, রাতে স্বপ্নে দেবী তাঁকে নীলবর্ণে পুজো করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরিবারের বিশ্বাস, দেবীর সেই স্বপ্নাদেশ মেনেই নীলবর্ণা দুর্গার পুজো শুরু হয়।
পরিবারের প্রবীণ সদস্য তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের এক চালার প্রতিমা পুজো হয়। এখানে গণেশ ও কার্তিকের জায়গা বদল হয়েছে। সপ্তমী অষ্টমী এবং নবমী তিন দিনই পাঁঠাবলি হয়। এছাড়া আখ ও কলা বলি হয়। যদিও আগে বাংলাদেশে মোষ বলির রীতি ছিল। মোষ বলি বন্ধের পর যিনি পুজোর দায়িত্বে থাকেন তিনি হাত কেটে রক্ত নিবেদন করেন। বাড়ির নবীন সদস্য স্বপ্ননীল চট্টোপাধ্যায় বলেন, উলটোরথে মায়ের কাঠামো পুজো হয়, ষষ্ঠীরদিন বাড়ির বেলগাছে পুজো করা হয়। শাক্ত মতে পুজো হয়। মাকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী তিন দিনই আঁশযুক্ত ভোগ নিবেদন করা হয়। দশমীতে পান্তা ভাত, ডালের বড়া, কচুর শাক দেওয়া হয়। এছাড়া হয় শত্রু বলি। চালের গুঁড়ো কলাপাতার মধ্যে পিটুলি দিয়ে মানুষের রূপ করে তাকে বলি দেওয়া হয়। গত বছর কুমারীপুজো বন্ধ ছিল। তবে এ বছর কুমারীপুজো হবে।