


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে প্রতীক বদল! গত ৪-৫ দিন ধরে চলা জল্পনার অবসান হল শনিবারের পড়ন্ত বিকেলে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিলেন সিপিএমের ‘তরুণ তুর্কি’ প্রতীক উর রহমান। আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বাইরে প্রকাশ্য রাস্তায় সম্পন্ন হল সেই যোগদান পর্ব। ঘটনাচক্রে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধে সিপিএমের হয়ে লড়াই করেছিলেন প্রতীক উর। কাজেই এদিনের যোগদানকে ‘ডিল’ বা সমঝোতা বলে কটাক্ষ করছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের সব সমালোচনার জবাব একসঙ্গেই দিয়েছেন অভিষেক-প্রতীক উর। অভিষেক বললেন, ‘ডিল হয়েছে এটাই যে, প্রতীক মানুষের জন্য কাজ করবে। কিছু পাওয়ার আশায় ও তৃণমূলে আসেনি।’ আর প্রতীক উরের দাবি, ‘বিজেপিকে বাংলার মাটিতে ঢুকতে দেব না, এটাই আমার ডিল!’ তৃণমূলের পতাকা হাতে নেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য তাঁকে বহিষ্কার করেছে সিপিএম।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পার্টির সমস্ত পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি দেয়েছিলেন প্রতীক উর। তার ঠিক সাত দিনের মধ্যে তিনি হাতে তুলে নিলেন ‘জোড়াফুল’ চিহ্নের পতাকা। এদিন আমতলায় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ডের বক্তব্য, ‘সিপিএমের বেড়াজাল ভেঙে প্রতীক উর তৃণমূলে এসেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। তরুণ প্রজন্মের কেউ তৃণমূলে আসতে চাইলে স্বাগত।’ একইসঙ্গে সিপিএমের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, ‘সামাজিক মাধ্যমে শুধু বিপ্লব না করে রাস্তায় নামুন। সিপিএমের ৩৫ শতাংশ ভোট কেন বিজেপিতে গিয়েছে, সেটা আগে মহম্মদ সেলিমরা চিন্তা করুন। কেউ বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে বাংলায় আগুন জ্বালাবে, রাতের অন্ধকারে মিটিং করবে, সেটা কীসের ডিল?’
প্রতীক উর প্রসঙ্গে শুক্রবার ‘সন্তান হারানোর বেদনা’ ব্যক্ত করেছিলেন মহম্মদ সেলিম। জবাবে এদিন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে নিশানা করে প্রতীক উর বলেন, ‘পিতা যদি সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করে, তাহলে সেই পিতার সন্তান হারানো বেদনা নিয়ে কুম্ভীরের কান্না মানায় না। সিপিএম পার্টিতে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে তৃণমূলে শ্বাস নিতে এসেছি। এরপর অনেকেই মুখ খোলা শুরু করবে। মহম্মদ সেলিমকে জিজ্ঞাসা করবে, রাজা তোর কাপড় কোথায়?’