


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: গাঁজার সঙ্গে জালনোট উদ্ধারে সাফল্য পেল আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা থানার পুলিস। শনিবার রং খেলার দিন জালনোট ও গাঁজা সহ পুলিস মাঝেরডাবরির হলদিবাড়ি মোড় থেকে এক মহিলা সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল মমতা দত্ত, সইদুল মিয়াঁ ও নূর ইসলাম। ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কোচবিহারের চৌধুরীহাট এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে একটি টোটোও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পুলিস ধৃতদের কাছ থেকে ১০ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা ও ১২ হাজার ৫০০ টাকার জালনোট উদ্ধার করেছে। জাল টাকাগুলি সবই ৫০০ টাকার নোট। এই জালনোটের সঙ্গে বাংলাদেশি যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিস। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস এবিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে। সোমবার পুলিস ধৃতদের আদালতে তুলবে।
গত সোমবার ব্রাউন সুগার সহ পুলিস তৃণমূল কংগ্রেসের মাঝেরডাবরি (পশ্চিম) অঞ্চল সভাপতি বিষ্ণু রায়কে গ্রেপ্তার করেছিল। তার সঙ্গে ধরা পড়েছিল মালদহের কালিয়াচকের শাহাজাদপুরের চন্দন মণ্ডল নামে এক মাদক পাচারকারী যুবকও। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এক সপ্তাহের মধ্যে ফের মাঝেরডাবরি এলাকাতেই জালনোট ও গাঁজা সহ তিন জন গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শনিবার পুলিস খবর পায় চৌধুরীহাট থেকে টোটোতে করে গাঁজা আসছে আলিপুরদুয়ারে। খবর পেয়েই শামুকতলা থানার ওসি জগদীশচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পুলিস হলদিবাড়ি মোড়ে ফাঁদ পাতে। সলসলাবাড়ি পার হয়ে টোটোটি হলদিবাড়ি মোড়ে আসতেই পুলিস গাঁজা সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে জালনোট মেলে।
পুলিস জানিয়েছে, টোটোটি সইদুল চালিয়ে নিয়ে আসছিল। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে মহিলা মমতা দত্তকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল দুষ্কৃতীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস মনে করেছে, গাঁজা ও জালনোট পাচারের আসল কিংপিন সইদুল। টোটো চালানোর পেশার আড়ালে সে গাঁজা ও জালনোটের কারবারের সঙ্গে যুক্ত। ওই গাঁজা ও জালনোট দুষ্কৃতীরা আলিপুরদুয়ারে না কি বাইরে পাচারের ছক কষেছিল, পুলিস তা জানার চেষ্টা করছে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, গাঁজা ও জালনোটের সঙ্গে এক মহিলা সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জালনোটের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ আছে কি না, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।