


সংবাদদাতা, কাঁথি: পটাশপুরের পালপাড়া এলাকায় জোড়া কালীমন্দিরের পুজো ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েকশো বছর আগে পালপাড়া ও পাশের বারুইবাড় গ্রামের শেষ প্রান্তে পাশাপাশি একই জায়গায় দু’টি পৃথক মন্দির গড়ে মায়ের আরাধনা শুরু হয়েছিল। তা এখনো চলছে। যেহেতু পালপাড়া একটি পরিচিত জনপদ, আর একই জায়গায় পুজো হয় বলে পালপাড়ার জোড়া কালীমন্দির বলে পরিচিত। যত সময় এগিয়েছে, দুই মন্দিরের পুজোর বহর ও আড়ম্বরও তত বেড়েছে। আগে মাটির থাকলেও গ্রামবাসীদের সহায়তায় পাকা মন্দির গড়ে উঠেছে। দুটি পুজো ঘিরে মেলা বসে যায়। দু’টি পুজো পরিচালনা করার জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে। পৃথকভাবে নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দু’টি মন্দিরে পুজো সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দারাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন মেলা দেখতে আসেন এবং পুজো দেন। আনন্দে শামিল হন। আলোকমালায় সেজে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ।
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, তৎকালীন সময়ে এই এলাকায় কলেরা মহামারী রূপে দেখা দিয়েছিল। মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে মানত করে মা কালীর আরাধনা শুরু করেছিলেন এলাকার কয়েকজন মানুষ। পাশাপাশি দুই গ্রামের মানুষ দু’টি মন্দির গড়ে পুজো শুরু করেছিলেন। মা কালীর আরাধনা শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকায় মহামারীর প্রকোপ ক্রমশ কমতে থাকে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। যদিও ঠিক কবে পুজো শুরু হয়েছিল, তা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। তবে অন্তত ৩০০ বছরের প্রাচীন এই জোড়াকালীর মন্দির, এমনটাই বলছেন প্রবীণ ব্যক্তিরা। সমস্ত রীতি মেনে পুজোর আয়োজন করা হয়। তবে কোনো পশুবলি হয় না। গ্রামের পুরোহিত পরিবার দু’টি মন্দিরে বংশানুক্রমিক পুজো পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে দু’টি মন্দিরে পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা পালপাড়া কলেজের প্রাক্তন শিক্ষাকর্মী তারাপদ নায়েক বলেন, এই দু’টি মন্দির খুবই জাগ্রত। দুই মন্দিরকে ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনি রয়েছে। মায়ের কাছে কেউ ভক্তিভরে মানত করলে তা পূরণ হয়, এটাই বিশ্বাস রয়েছে।