


সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে বংশীহারির বদলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হল ১০ শয্যার হাসপাতাল পরিষেবা। বুধবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাসপাতালের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি হরিরামপুরের বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগা সেন্টার, কুশমণ্ডির আমিনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ল্যাবরেটরি এবং কুশমণ্ডি ও হরিরামপুরে আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এর ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আগামী দিনে আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা স্বাস্থ্য দপ্তরের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন আগে বদলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে সেখানে রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়েও সমস্যার সমাধান পাননি। ফলে রাতবিরেতে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বদলপুর ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে হতো। পুজোর আগে বদলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের দ্রুত পরিষেবা চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেই প্রতিশ্রুতি মতো এবার ইনডোর পরিষেবা চালু হল।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো ভবনের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমানে ২ চিকিৎসক ও ৫ জন নার্সের মাধ্যমে ১০ শয্যার ইনডোর পরিষেবা চালানো হবে। আগামী দিনে সাংসদ তহবিলের অর্থে রোগীর পরিজনদের জন্য প্রতীক্ষালয় এবং চিকিৎসকদের থাকার আবাসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি এলাকার বাসিন্দারা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, আগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুরবস্থার অন্যতম কারণ ছিল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ব্লক হাসপাতালগুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া। আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে সামান্য শারীরিক সমস্যাতেও সাধারণ মানুষ কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পান। এতে মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে এবং চিকিৎসা পরিষেবা আরও সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরিদর্শন ও নির্দেশনার পরই বদলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ইনডোর পরিষেবা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনেও জেলাবাসীর স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা মাথায় রেখে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলবে।