


কলকাতা, ২১ জুলাই: রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের। আড়াই মাসের মধ্যে তিন টুকরো দল। মঙ্গলবার আলাদা আলাদাভাবে শহিদ তর্পণের আয়োজন করেছিল তিনটি শিবিরই। সকালে দিল্লির রাজঘাটে একুশে শহিদদের স্মরণ করেন তৃণমূল ভেঙে গঠিত এনসিপিআই-এর ১০ সাংসদ। অন্যদিকে, কলকাতায় মাত্র কয়েক কিলোমিটারের দূরত্বে আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চ থেকে একে অন্যকে আক্রমণে বেশি ব্যস্ত রইল কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল।
বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের সভামঞ্চ থেকে ফের আন্দোলনে ফেরার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে লড়াই শুরু হল। এরপর নবান্ন অভিযান, রাইটার্স অভিযান, লালবাজার অভিযান হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জেলা সফরে যাচ্ছি। দিল্লিও যাবো। যোগ দেব ককরোচ পার্টির কর্মসূচিতে।’
কালীঘাটের তুলনায় ভিড়ের দিক থেকে খানিক হলেও পিছিয়েই রইল ঋতব্রত তৃণমূল। তবে মঞ্চে হেভিওয়েট নেতাদের বক্তব্য শোনা গেল। অনুব্রত মণ্ডল, ফিরহাদ হাকিম থেকে মদন মিত্র- কে নেই সেই তালিকায়। তবে বক্তব্য রাখার নিরিখে সময় বেশি পেলেন ঋতব্রত। তাঁর ভাষণে সর্বাধিক গুরুত্ব পেল দুর্নীতি প্রসঙ্গ। অভিযোগ করেন, বাংলা থেকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে পাচার হয়েছে তৃণমূলের টাকা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তাঁর অভিযোগের আঙুল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আসল তৃণমূলে’ ফেরার জন্য এক মাস সময় দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। আর অভিষেককে দিয়েছিলেন ফেরার জন্য দু’ঘণ্টা সময়।
বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের সভামঞ্চ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একুশে জুলাইয়ের সভায় যোগ দিতে আসা দলের কর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগ করেন মমতা। এজন্য বিজেপিকে দায়ী করেন তিনি। একই অভিযোগে সরব হয়েছেন ঋতব্রত।