


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বেগুন থেকে চিনি। সবজি থেকে আনাজ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগুনছোঁয়া। মূল্যবৃদ্ধির ঠেলায় হেঁসেল ঠেলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তকে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে মঙ্গলবার বিধাননগর, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলির একাধিক বাজারে হানা দিলেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁরা সবজি, মাছ, ফল, মুদির দোকানে খোঁজখবর নেন। গরমিল, বেআইনি মজুত, কালোবাজারি হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখেন।
বিধাননগরের মহকুমা শাসক প্রিয়াংশা গর্গ এবং বিধাননগরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার দেবরাজ দাসের নেতৃত্বে প্রশাসনিক আধিকারিকরা লেকটাউনের পুর বাজারে যান। সঙ্গে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, কৃষি বিপণন, খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন। সবজি, ফল, চিনি সহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম লিখে ক্রেতা, বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তেও অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও প্রশাসন। ডায়মন্ডহারবারের কপাটের হাট-সহ একাধিক বাজারে যান তাঁরা। নেতৃত্বে ছিলেন মহকুমা শাসক। ফুড লাইসেন্সের বিষয়েও খোঁজ নেন। কাকদ্বীপ ব্লকেও চলে অভিযান। ধান, চাল, ফল, সার, মুদিখানা ও সবজির দোকানগুলিতে ঢুঁ মারেন। প্রত্যেকটি আড়ত ও দোকানে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হলে থানায় ও বিডিও অফিসে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। বারুইপুরের কাছারি বাজার, পূরাতন বাজারেও অভিযান চলে। সর্বত্র ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না। অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
উলুবেড়িয়ার বিভিন্ন বাজারে, পাইকারি গোডাউনে অভিযান চালায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। হাজির ছিলেন হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা, উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক মানসকুমার মণ্ডল, উলুবেড়িয়ার এসডিপিও ঈশান সিনহা সহ এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। পুলিশ সুপার বলেন, বাজার থেকে বেশি দামে জিনিস বিক্রি করা হলে আইনানুগ বাবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি এবং এসিপি পর্যায়ের অফিসাররা থানার আইসিদের সঙ্গে নিয়ে বারাকপুরে শান্তি বাজার, শ্যামনগরের অন্নপূর্ণা বাজার, কাঁচরাপাড়ার মণ্ডল বাজারে হানা দেয়। হাওড়ার কদমতলা বাজারে যান ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (ডিইবি) আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল পুলিশ। প্রথমে একটি চিনির গোডাউনে যান তাঁরা। জানতে পারেন, কেজি প্রতি প্রায় ৬২ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। বস্তা পিছু ৩০-৩৫ টাকা লাভে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে খুচরো দর কেজিতে ৬৫-৭০ টাকা। কোথাও কেজিতে ২ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত লাভ রাখা হচ্ছে। সকালের দিকে বেশি দর থাকলেও বেলা বাড়ার পর অনেক ক্ষেত্রে দাম কমছে। ডি ই বির ইন্সপেক্টর শ্রাবণী রায় বলেন, জিনিসপত্রের দাম যাতে আর অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান। কদমতলা সবজি বাজারেও যান তাঁরা। দাঁড়িপাল্লায় ওজন কম দেওয়ার অভিযোগ যাতে না ওঠে তা নিয়ে সতর্ক করেন। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) তৌসিফ আলি আজাহার বলেন, চিনির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে এর মধ্যে কোথায় নিয়ম মানা হচ্ছে, আর কোথায় অনিয়ম রয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
লেকটাউনের পুর বাজারে বিধাননগরের মহকুমা শাসক প্রিয়াংশা গর্গ এবং বিধাননগরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার দেবরাজ দাস। নিজস্ব চিত্র